Sfuron 2026: জ্বালানি খাতে ৫ উদ্ভাবনী প্রকল্প পুরস্কৃত

Sfuron 2026 প্রতিযোগিতায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও জ্বালানি দক্ষতা বাড়াতে পাঁচটি উদ্ভাবনী প্রকল্পকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। ৩ নভেম্বর বাংলাদেশ সোলার এক্সপো ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনটি বিভাগে নির্বাচিত এসব প্রকল্পের লক্ষ্য জ্বালানি খাতে বাস্তবসম্মত ও পরিবেশবান্ধব সমাধান তুলে ধরা।

প্রতিযোগিতার আয়োজন

বিদ্যুৎ বিভাগের উদ্যোগে টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (SREDA), ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জার্মান উন্নয়ন সহযোগিতা সংস্থা GIZ-এর সহযোগিতায় প্রতিযোগিতাটি আয়োজন করা হয়। কয়েক ধাপের মূল্যায়ন এবং বিশেষজ্ঞ বিচারকদের সামনে সরাসরি প্রকল্প উপস্থাপনার পর পাঁচটি প্রকল্পকে বিজয়ী নির্বাচন করা হয়। প্রতিযোগিতার বিস্তারিত ও বিজয়ীদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়েছে আয়োজকদের সরকারি ওয়েবসাইটে।

শিক্ষার্থীদের চারটি উদ্ভাবন

নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিভাগে শিক্ষার্থী পর্যায়ে প্রথম হয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সানজিদা আফরিন ও তাসফিয়া তাহিয়াতের ‘Roddur AI’। স্যাটেলাইট তথ্য ব্যবহার করে কোনো স্থানে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে পারে এই প্ল্যাটফর্ম। একই বিভাগে দ্বিতীয় হয়েছে ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির শেখ সাজিদুল ইসলাম ও লামিয়া তাবাসসুম নবনীর ‘Surjo Ghat’। এতে ডিজেলচালিত মাছ ধরার নৌকাকে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থায় রূপান্তর এবং ঘাটে চার্জিং অবকাঠামো তৈরির ধারণা রয়েছে।

জ্বালানি দক্ষতা বিভাগে প্রথম হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জারা তাসনুভা আলম ও হুমায়রা তাবাসসুম তুরাসার ‘TPECO Framework’। এটি স্মার্ট প্রযুক্তির মাধ্যমে ক্যাম্পাসে বিদ্যুতের ব্যবহার পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা প্রস্তাব করে। দ্বিতীয় হয়েছে বুয়েটের লাবিবা আনিকা ও খন্দকার রুহামা আমিনের ‘ChhadGrid’। এতে শহরের ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারের সমন্বিত মডেল তুলে ধরা হয়েছে।

পেশাজীবী বিভাগ ও জাতীয় লক্ষ্য

পেশাজীবী বিভাগে বিজয়ী হয়েছেন Multifabs Limited-এর মো. টিপু সুলতান। তাঁর প্রকল্পে শিল্পকারখানার বয়লারের অপচয় হওয়া তাপ পুনরুদ্ধার এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড ব্যবহার করে বর্জ্যপানির অম্ল-ক্ষারত্ব নিয়ন্ত্রণের সমন্বিত ব্যবস্থা রয়েছে।

প্রতিযোগিতাটি জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র ২০২৬–২০৩০-এর লক্ষ্য বাস্তবায়নে নতুন ধারণাকে উৎসাহিত করছে। কৌশলপত্র অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার ৪৫০ মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং গৃহস্থালি, শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতে ১৫ শতাংশ জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বিজয়ীদের উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, একটি উদ্ভাবনী ধারণাও দেশের পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

 Follow For More