বিদেশের শ্রমবাজারে দক্ষ জনশক্তির চাহিদা কাজে লাগাতে বড় পরিসরে কেয়ারগিভার তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কোরিয়া, জাপান, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের শ্রমবাজারকে লক্ষ্য করে ৫০ হাজার ১০০ জন যুবক ও যুব নারীকে প্রশিক্ষণ দিতে প্রায় ৮৩৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকার প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পটির মেয়াদ চলতি বছর থেকে ২০৩১ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
‘দেশের সকল মহানগরীতে শিক্ষিত যুবদের কেয়ারগিভিং ও ভাষা দক্ষতার মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি’ শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর। প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের অন্তত ৬০ শতাংশকে কর্মসংস্থানে যুক্ত করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো:
- ৫০ হাজার ১০০ জনকে কেয়ারগিভিং প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
- ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী ন্যূনতম এসএসসি পাস প্রার্থীরা সুযোগ পাবেন।
- প্রাথমিকভাবে তিন মাসের প্রশিক্ষণে রোগীর প্রাথমিক সেবা, ওষুধ ব্যবস্থাপনা, পর্যবেক্ষণ ও দৈনন্দিন সহায়তা শেখানো হবে।
- বিদেশমুখী প্রশিক্ষণার্থীদের সংশ্লিষ্ট দেশের ভাষা শেখানোর ব্যবস্থাও থাকবে।
- ১৩টি মহানগরীর ৫০১টি ওয়ার্ডে ৩৩টি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে মোট ২ হাজার ৪টি ব্যাচ পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০৩৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশে যত্নসেবা খাতে প্রায় ৭০ লাখ নতুন কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে। একই সময়ে বিশ্বব্যাপী এ খাতে কর্মসংস্থানের চাহিদা ৩০ কোটির বেশি হতে পারে।
দেশে শিক্ষিত যুব বেকারত্ব এবং বিদেশে দক্ষ কর্মীর চাহিদা—দুই বাস্তবতাকে সামনে রেখে প্রকল্পটি নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রবীণ জনগোষ্ঠী বৃদ্ধি, একক পরিবার ও নগরায়ণের কারণে দেশেও কেয়ারগিভিং সেবার প্রয়োজন বাড়ছে। ফলে প্রশিক্ষিত কর্মী তৈরি হলে বিদেশে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি দেশের সেবাখাতেও নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
FAQs
প্রশ্ন: প্রকল্পে কতজনকে কেয়ারগিভিং প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে?
উত্তর: মোট ৫০ হাজার ১০০ জন যুবক ও যুব নারীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রশ্ন: প্রকল্পটির ব্যয় কত?
উত্তর: প্রকল্পটির প্রস্তাবিত ব্যয় প্রায় ৮৩৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা।
প্রশ্ন: কারা প্রশিক্ষণের জন্য আবেদন করতে পারবেন?
উত্তর: ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী ন্যূনতম এসএসসি পাস প্রার্থীরা বাছাই পরীক্ষার মাধ্যমে প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবেন।
প্রশ্ন: প্রশিক্ষণের মেয়াদ কত?
উত্তর: প্রাথমিকভাবে তিন মাসের কেয়ারগিভিং প্রশিক্ষণ কোর্স পরিকল্পনা করা হয়েছে।