সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিল ‘স্বপ্নসারথী’

‘স্বপ্ন দেখি, স্বপ্ন দেখাই’—এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা তৈরিতে কাজ করা বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের যৌথ প্ল্যাটফর্ম ‘স্বপ্নসারথী’র উদ্যোগে সুবিধাবঞ্চিত এসএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণের আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক (সচিব) ড. মোহাম্মদ জকরিয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট লেখক, নাট্যকার ও সাংবাদিক আনিসুল হক। এছাড়া স্বপ্নসারথীর চিফ অ্যাডভাইজার ও স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড (এসইএল)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আবদুল আউয়ালসহ অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শুভানুধ্যায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।

উক্ত প্ল্যাটফর্মভুক্ত সংগঠনগুলো সরকারি বা বৈদেশিক অনুদানের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে সমাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তি, কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান ও শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতায় দীর্ঘদিন ধরে অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা, পুষ্টি, স্বাস্থ্যসেবা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। তার মধ্যে এসইল চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশন, হাসিমুখ সমাজ কল্যাণ সংস্থা, মজার ইস্কুল, ইয়ুথ ফর বাংলাদেশ,ডেইলি টেন স্কুল, আমাদের পাঠশালা, স্বদেশ মৃত্তিকা আদর্শ বিদ্যা নিকেতন, ছায়াতল বাংলাদেশ, নতুনের শান্তি নিবাস, ইয়ুথ স্কুল ফর সোসাল এন্টোপ্রনিয়র্স, সোসাইটি ফর পিপলস্ এডভান্সমেন্ট অন্যতম।

জাতীয় সংগীতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন স্বপ্নসারথীর চিফ অ্যাডভাইজার ও স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড (এসইএল)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আবদুল আউয়াল। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন এগিয়ে নেওয়া এবং তাদের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা তৈরিতে সম্মিলিত উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানের পরবর্তী পর্বে বিভিন্ন অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রমের আওতায় থাকা কৃতি শিক্ষার্থীরা তাদের অভিজ্ঞতার গল্প তুলে ধরেন। তারা শিক্ষা অর্জনের পথে নিজেদের অভিজ্ঞতা, বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বক্তব্য দেন। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা তাদের শিক্ষা কার্যক্রম ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন।

পরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসি ও এইচএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের হাতে সার্টিফিকেট তুলে দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোকচিত্র ধারণ করা হয়।

অনুষ্ঠানের একটি বিশেষ পর্বে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমের ওপর নির্মিত ভিডিও প্রদর্শন করা হয়। ভিডিও প্রদর্শনীর মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত শিশু-কিশোরদের শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা তৈরিতে প্রতিষ্ঠানগুলোর চলমান উদ্যোগ ও কার্যক্রম তুলে ধরা হয়।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশিষ্ট লেখক, নাট্যকার ও সাংবাদিক আনিসুল হক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাঁর শিক্ষাজীবনের কিছু মজার স্মৃতি ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে অনুষ্ঠানে বিভিন্ন অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেওয়া শিক্ষার্থীদের প্রশংসা করেন তিনি। তিনি বলেন, জীবনে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে আর্থিক অবস্থাই মুখ্য বিষয় নয়; বরং অধ্যবসায়, আত্মবিশ্বাস ও এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতাই একজন মানুষকে তার লক্ষ্যে পৌঁছাতে সহায়তা করে। এ প্রসঙ্গে তিনি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জীবন ও শিক্ষাজীবনের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, বিদ্যাসাগর ল্যাম্পপোস্টের আলোয় পড়াশোনা করেছেন। একইভাবে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবনও ছিল নানা প্রতিকূলতায় পূর্ণ; কিন্তু সেই প্রতিকূলতা তাঁকে থামিয়ে রাখতে পারেনি—তিনি পরবর্তীতে বাংলাদেশের জাতীয় কবি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।

শিক্ষার্থীদের প্রতিকূলতাকে ভয় না পেয়ে নিজেদের সামর্থ্য ও স্বপ্নকে সামনে রেখে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান আনিসুল হক। তিনি শিক্ষার্থীদের আরও উদ্যমী, আত্মবিশ্বাসী ও অধ্যবসায়ী হওয়ার পরামর্শ দেন। বক্তব্যের শেষপর্যায়ে তিনি একটি অনুপ্রেরণামূলক গল্পের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সামনে জীবনের প্রতিকূলতা অতিক্রম করে নিজের লক্ষ্যে পৌঁছানোর বার্তা তুলে ধরেন।অনুষ্ঠানের পরবর্তী পর্বে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধি, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে এসএসসি উত্তীর্ণ কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা স্মারক (ক্রেস্ট) তুলে দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধি ও বিশেষ অতিথিদের আলোকচিত্র ধারণ করা হয়।

পরবর্তীতে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ড. মোহাম্মদ জাকারিয়া উপস্থিত হন। তাঁর উপস্থিতিতে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমের ওপর নির্মিত ভিডিও প্রদর্শন করা হয়। ভিডিও প্রদর্শনীর মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নমূলক উদ্যোগ, তাদের কাজের পরিধি এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার চিত্র তুলে ধরা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মোহাম্মদ জাকারিয়া শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান এবং তাদের শিক্ষা অব্যাহত রেখে ভবিষ্যতে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সুবিধাবঞ্চিত শিশু-কিশোরদের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে সরকারি প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি সংস্থা ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানের শেষপর্বে সমাপনী বক্তব্য ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হয়। প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিসহ আমন্ত্রিত অতিথিদের পরিবেশবান্ধব উপহারসামগ্রী প্রদান করা হয়। পরে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী, শিক্ষক, প্রতিষ্ঠান ও অতিথিদের নিয়ে দলীয় আলোকচিত্র ধারণ করা হয়। সবশেষে অতিথি, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের আপ্যায়নের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।