বাইমেটালিজম বা দ্বিধাতব মুদ্রাব্যবস্থা এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে মুদ্রার মূল্য সোনা ও রুপা, এই দুই ধাতুর নির্দিষ্ট অনুপাতে ঠিক করা হয়। সরকার এই অনুপাত নির্ধারণ করে দেয়, যাকে টাঁকশাল অনুপাত বলা হয়। ঊনবিংশ শতকে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিম ইউরোপের কয়েকটি দেশ এ ব্যবস্থা ব্যবহার করত।
১৭৯২ সালের মুদ্রা আইনে যুক্তরাষ্ট্র সোনা ও রুপার অনুপাত ঠিক করে ১৫:১। ফ্রান্স ১৮০৩ সালে চালু করে ১৫.৫:১ অনুপাত, আর ১৮৬৫ সালে ফ্রান্স, বেলজিয়াম, ইতালি ও সুইজারল্যান্ড মিলে গঠন করে ল্যাটিন মুদ্রা ইউনিয়ন।
এই ব্যবস্থার মূল দুর্বলতা ছিল গ্রেশামের সূত্র, যার সারকথা “খারাপ মুদ্রা ভালো মুদ্রাকে বাজার থেকে সরিয়ে দেয়”। আইনি অনুপাত ও বাজারদর আলাদা হলে যে ধাতুর দাম টাঁকশালে কম ধরা হয়, তা জমিয়ে রাখা, গলানো বা রপ্তানি হয়ে যায়, আর বেশি দামে ধরা ধাতুই চলে বাজারে। যুক্তরাষ্ট্রে শুরুর দিকে সোনাকে কম মূল্য দেওয়ায় সোনার মুদ্রা প্রচলন থেকে সরে যায়।
১৮৭০-এর দশকে পরিস্থিতি বদলে যায়। জার্মানি ১৮৭১ থেকে ১৮৭৩ সালের মধ্যে স্বর্ণমান গ্রহণ করে রুপার মুদ্রায়ন বন্ধ করে। ল্যাটিন মুদ্রা ইউনিয়ন ১৮৭৪ সালে রুপার অবাধ মুদ্রায়ন সীমিত করে এবং ১৮৭৮ সালে তা বন্ধ করে দেয়। যুক্তরাষ্ট্রে ১৮৭৩ সালের মুদ্রা আইনে রুপার অবাধ মুদ্রায়ন থেমে যায়, যাকে রুপাপন্থীরা “১৮৭৩ সালের অপরাধ” বলে নিন্দা করেন।
এরপর শুরু হয় “ফ্রি সিলভার” আন্দোলন। ১৮৭৮ সালের ব্ল্যান্ড-অ্যালিসন আইন ও ১৮৯০ সালের শেরম্যান রুপা ক্রয় আইনে রুপার ভূমিকা বাড়ানোর চেষ্টা হয়। ১৮৯৬ সালের জুলাইয়ে ডেমোক্র্যাটিক কনভেনশনে উইলিয়াম জেনিংস ব্রায়ান বিখ্যাত “ক্রস অব গোল্ড” বক্তৃতায় ১৬:১ অনুপাতে রুপার অবাধ মুদ্রায়ন দাবি করেন, যাতে মূল্যহ্রাসে চাপে পড়া ঋণগ্রস্ত কৃষকেরা স্বস্তি পান। কিন্তু নির্বাচনে ব্রায়ান উইলিয়াম ম্যাককিনলির কাছে হেরে যান, আর ১৯০০ সালের স্বর্ণমান আইনে ডলার আনুষ্ঠানিকভাবে শুধু সোনার সঙ্গে যুক্ত হয়।
আজ কোনো মুদ্রা সোনা বা রুপায় সমর্থিত নয়, তাই বাইমেটালিজম নিয়ে বিতর্ক মূলত ইতিহাসের অংশ। তবু এটি দেখায়, মুদ্রার মূল্য ঠিক করার প্রশ্নে রাজনীতি, ঋণগ্রহীতার স্বার্থ ও বাজারের শক্তি কীভাবে একসঙ্গে জড়িয়ে থাকে।
Follow For More