ভিডিও কলে বর-কনে শুধু ‘কবুল’ বললেই কি বিয়ে বৈধ হয়ে যায়—এ প্রশ্ন নিয়ে অনেকের মধ্যে বিভ্রান্তি রয়েছে। ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী বিয়ে সম্পন্ন হওয়া এবং রাষ্ট্রীয় আইনে বিয়ের স্বীকৃতি পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে।
বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এমন অনেক মানুষ আছেন, যাঁরা বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করলেও সেটি নিবন্ধন করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত নন। কেউ ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী বিয়ে করেন, আবার কেউ নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে হলফনামা বা এফিডেভিট করেও বিয়ের ঘোষণা দেন।
বিবিসি নিউজ বাংলার এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমনই একটি চিত্র। ২৪ বছর বয়সী এক নারী জানান, পরিবারের সম্মতি না পাওয়ায় প্রেমিকের সঙ্গে সিলেটে গিয়ে একটি মসজিদে বিয়ে করেছিলেন তিনি। তবে চার বছরের দাম্পত্য জীবনে তাঁর বিয়ে নিবন্ধন করা হয়েছিল কি না, তা তিনি নিশ্চিত নন।
আইনজীবী ও কাজী অফিস সংশ্লিষ্টদের মতে, ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ এবং সাক্ষীর উপস্থিতিতে বর-কনের সম্মতিতে বিয়ে ধর্মীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে। তবে ধর্মীয়ভাবে বিয়ে সম্পন্ন হওয়া এবং রাষ্ট্রীয় আইনে বিয়ের নিবন্ধন এক বিষয় নয়।
আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমনের মতে, বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিয়ে নিবন্ধন করা বাধ্যতামূলক। মুসলিম বিয়ের ক্ষেত্রে অনুমোদিত নিকাহ রেজিস্ট্রার বা কাজীর মাধ্যমে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হয়।
শুধু ভিডিও কলে ‘কবুল’ বলা, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা কিংবা নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে এফিডেভিট করাকে বিয়ের নিবন্ধনের বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিয়ের ক্ষেত্রে ধর্মীয় বিধান পালনের পাশাপাশি প্রযোজ্য আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং নিবন্ধনের প্রমাণপত্র সংরক্ষণ করা জরুরি। এতে ভবিষ্যতে বৈবাহিক সম্পর্ক ও অধিকার নিয়ে আইনি জটিলতা এড়ানো সহজ হতে পারে।
ভিডিও কলে বিয়ের বৈধতা নির্দিষ্ট পরিস্থিতি ও প্রযোজ্য আইনি শর্তের ওপর নির্ভর করতে পারে। তাই এ ধরনের বিষয়ে প্রয়োজন হলে আইন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
Follow Fore More