জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে অনেকেই বারবার পিছিয়ে যান। নতুন চাকরি, বাসস্থান পরিবর্তন কিংবা চিকিৎসাসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত—সব ক্ষেত্রেই ভুল হওয়ার ভয় ও অনিশ্চয়তা মানুষকে সিদ্ধান্তহীনতায় ফেলতে পারে।
মনোবিজ্ঞান বলছে, অনেক সময় মানুষ কাজটি নয়, বরং সিদ্ধান্তের সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে অনিশ্চয়তাকেই এড়িয়ে চলতে চান। ফলে বারবার চিন্তা করা, বিকল্প যাচাই এবং অন্যের আশ্বাস খোঁজার প্রবণতা তৈরি হয়।
সিদ্ধান্ত এড়িয়ে চললে সাময়িক স্বস্তি, বাড়ে চাপ
মনোবিজ্ঞানে এ আচরণের সঙ্গে ‘নেগেটিভ রিইনফোর্সমেন্ট’ বা নেতিবাচক পুনর্বলনের সম্পর্ক রয়েছে। অস্বস্তিকর পরিস্থিতি এড়িয়ে গেলে সাময়িক স্বস্তি পাওয়া যায়। কিন্তু সিদ্ধান্তটি অনিষ্পন্ন থাকায় দীর্ঘমেয়াদে মানসিক চাপ থেকেই যায়।
সেরা বিকল্প খুঁজতে গিয়েই সিদ্ধান্তহীনতা
প্রতিটি ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো বিকল্পটি খোঁজার প্রবণতাকে গবেষণায় ‘ম্যাক্সিমাইজিং’ বলা হয়। এ ধরনের মানুষ গ্রহণযোগ্য বিকল্প বেছে নেওয়ার বদলে সব সম্ভাবনা যাচাই করতে থাকেন। ফলে সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হয় এবং আগের পছন্দ নিয়েও সন্দেহ তৈরি হয়।
২০২৪ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ম্যাক্সিমাইজিং প্রবণতাসম্পন্ন ব্যক্তিরা সিদ্ধান্ত নিতে কতটা সময় ব্যয় করেন, তা প্রায়ই কম করে অনুমান করেন।
বিকল্প বেশি হলে বাড়ে দ্বিধা
একাধিক বিকল্প সামনে থাকলে সিদ্ধান্ত আরও জটিল হতে পারে। স্বাস্থ্যসেবায় চিকিৎসার খরচ পরিশোধের বিভিন্ন পদ্ধতি বেছে নেওয়াও এর উদাহরণ। বিকল্প কীভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, সেটিও সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে। আচরণবিজ্ঞানে একে ‘চয়েস আর্কিটেকচার’ বলা হয়।
সিদ্ধান্তহীনতা কাটাবেন যেভাবে
১. ছোট পদক্ষেপ নিন: প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলা দিয়ে শুরু করুন।
২. বিকল্প সীমিত করুন: অসংখ্য সম্ভাবনার বদলে দুই থেকে তিনটি বাস্তবসম্মত বিকল্প বিবেচনা করুন।
৩. নিখুঁত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা ছাড়ুন: বর্তমান পরিস্থিতি ও তথ্য অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত নিন।
৪. নিজেকে প্রশ্ন করুন: আরও তথ্য প্রয়োজন, নাকি ভুলের ভয়ে সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিচ্ছেন?
শেষ কথা
সব সিদ্ধান্তের ভবিষ্যৎ আগে থেকে জানা সম্ভব নয়। তাই নিখুঁত বিকল্পের অপেক্ষায় আটকে না থেকে প্রয়োজনীয় তথ্যের ভিত্তিতে গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং ছোট পদক্ষেপে এগিয়ে যাওয়াই সিদ্ধান্তহীনতা কাটানোর কার্যকর উপায় হতে পারে।
সূত্র: Psychology Today, Ryan C. Warner, Ph.D. (২ নভেম্বর ২০২৬)। গবেষণা: Cheek & Schwartz (2016); Huang & Li (2024)।