ডিজিটাল লেনদেনে কয়েক সেকেন্ডেই টাকা পাঠানো যায়। এই গতিই আবার ঝুঁকি বাড়ায়, কারণ একটি অসতর্ক ধাপ বা ছোট ভুলই পুরো সঞ্চয় হারানোর কারণ হতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মোবাইল আর্থিক সেবা, চেক ও কার্ড লেনদেনে ৮১ হাজার ৪২৩টি প্রতারণার ঘটনা জানানো হয়েছে, যাতে জড়িত অর্থের পরিমাণ প্রায় ৯২ কোটি ৬০ লাখ টাকা।
সবচেয়ে বড় ভুল হয় পিন বা ওটিপি বলে দেওয়ায়। প্রতারকরা নিজেদের বিকাশ, নগদ বা ব্যাংকের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ফোন করে এবং সমস্যা সমাধানের কথা বলে কোড জানতে চায়। অথচ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো মোবাইল অপারেটর, ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান ফোন করে পিন বা ওটিপি জানতে চায় না। একজন বিশেষজ্ঞের ভাষ্য, ওটিপি কাউকে না জানালে সাধারণত এর মাধ্যমে প্রতারিত হওয়ার সুযোগ কম।
দ্বিতীয় ফাঁদ হলো ভুল করে টাকা পাঠানোর নাটক। প্রতারক ফোন করে জানায়, ভুলে আপনার নম্বরে টাকা চলে গেছে, ফেরত দিন। অথচ আসলে সে কোনো টাকা পাঠায়নি, বরং কৌশলে নিজের নম্বরে আপনার টাকা আদায় করে নেয়। তাই ফেরত পাঠানোর আগে নিজের অ্যাকাউন্টে টাকা এসেছে কি না, লেনদেনের ইতিহাসে মিলিয়ে দেখা জরুরি।
তৃতীয় ঝুঁকি আসে নিজের অসাবধানতা থেকে। টাকা পাঠানোর আগে প্রাপকের নম্বর ও নাম ভালোভাবে যাচাই না করলে অর্থ ভুল ব্যক্তির কাছে চলে যেতে পারে। একইভাবে “পুরস্কার জিতেছেন” বলে আসা অচেনা কলে কোনো অপশন চাপা বা অপরিচিত নম্বরে কল ব্যাক করাও বিপদ ডেকে আনতে পারে।
ভুল হয়ে গেলে ঘাবড়ে না গিয়ে দ্রুত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে জানানো উচিত। বিকাশ জানিয়েছে, দ্রুত ও সঠিক পদক্ষেপ নিলে ভুল নম্বরে পাঠানো টাকা ফেরত পাওয়া সম্ভব।
প্রযুক্তি যতই উন্নত হোক, নিরাপত্তার প্রথম ধাপ ব্যবহারকারীর সতর্কতা। কোড গোপন রাখা, নম্বর যাচাই করা এবং অচেনা কলে সাড়া না দেওয়ার অভ্যাসই একটি ছোট ভুল থেকে বড় ক্ষতি ঠেকাতে পারে।
Follow For More