ঢাকায় শুরু ওয়ার্ল্ড মার্কেটিং ফোরাম ২০২৬, অংশ নিচ্ছেন ফিলিপ কটলার
বাংলাদেশে শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক মার্কেটিং সম্মেলন ওয়ার্ল্ড মার্কেটিং ফোরাম ২০২৬ (ডব্লিউএমএফ)। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ঢাকার ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনের ষষ্ঠ আসর শুরু হয়। এবারের সম্মেলনে এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের মার্কেটিং বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ, ব্যবসায়ী নেতা এবং করপোরেট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।
এবারের সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ‘Artificial Intelligence in Marketing: Human + Tech’। অর্থাৎ বিপণন খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং মানুষের দক্ষতার সমন্বয়। আধুনিক বিপণনব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহার, গ্রাহকের আচরণ বিশ্লেষণ, ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং ভবিষ্যতের মার্কেটিং কৌশল নিয়ে আলোচনা হচ্ছে এই আয়োজনে।
সম্মেলনে থাকছেন মার্কেটিং বিশেষজ্ঞ ফিলিপ কটলার
এবারের ওয়ার্ল্ড মার্কেটিং ফোরামের অন্যতম আকর্ষণ যুক্তরাষ্ট্রের নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির কেলগ স্কুল অব ম্যানেজমেন্টের অধ্যাপক ফিলিপ কটলার। আধুনিক মার্কেটিং শিক্ষার অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত তিনি। তাঁর অংশগ্রহণ সম্মেলনটিতে আন্তর্জাতিক গুরুত্ব যোগ করেছে।
এ ছাড়া সম্মেলনে উপস্থিত রয়েছেন ওয়ার্ল্ড মার্কেটিং ফোরামের সহপ্রতিষ্ঠাতা হারমাওয়ান কার্তাজায়া। গুগলের তারা ইউনসহ আফ্রিকান ও ইউরোপিয়ান মার্কেটিং কনফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট হেলেন ম্যাকইনটি-কার্লাইল এবং রালফ স্ট্রাউসও বক্তাদের তালিকায় রয়েছেন।
এশিয়া মার্কেটিং ফেডারেশন এবং শ্রীলঙ্কা ইনস্টিটিউট অব মার্কেটিংয়ের প্রতিনিধিরাও এতে অংশ নিচ্ছেন। তাঁদের অভিজ্ঞতা ও মতামতের মাধ্যমে বিভিন্ন অঞ্চলের বিপণনব্যবস্থা, ব্যবসায়িক চ্যালেঞ্জ এবং প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের বিষয়গুলো আলোচনায় উঠে আসবে।
বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব ও স্থানীয় ব্যবসায়িক অংশগ্রহণ
আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের পাশাপাশি বাংলাদেশের শিক্ষাবিদ ও ব্যবসায়িক খাতের শীর্ষ কর্মকর্তারাও সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন। ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক সৈয়দ ফেরহাত আনোয়ার, পিএইচডি, এতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। তিনি একই সঙ্গে ওয়ার্ল্ড মার্কেটিং কাউন্সিলের সভাপতি।
এ ছাড়া বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন। দেশের বেসরকারি খাত থেকেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা যুক্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে নেসলে বাংলাদেশ, এমকর্প এবং ভোসু.এআই-এর কর্মকর্তারা রয়েছেন।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গবেষণা সংস্থা এবং করপোরেট খাতের প্রতিনিধিদের এই অংশগ্রহণ বিপণন বিষয়ে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসায়িক পরিবেশ ও স্থানীয় বাজারের সম্ভাবনাও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বিপণনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার গুরুত্ব
বর্তমানে বিপণন খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে। গ্রাহকের পছন্দ ও আচরণ বিশ্লেষণ, ব্যক্তিগত চাহিদা অনুযায়ী পণ্য বা সেবা উপস্থাপন, বিজ্ঞাপন তৈরি এবং বাজারের প্রবণতা বুঝতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।
আগে বিপণন কৌশল নির্ধারণে মূলত মানুষের অভিজ্ঞতা, বাজার গবেষণা এবং প্রচলিত তথ্য বিশ্লেষণের ওপর নির্ভর করতে হতো। এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে বিপুল পরিমাণ তথ্য দ্রুত বিশ্লেষণ করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহকের প্রয়োজন বুঝে তুলনামূলক দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারছে।
তবে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লেও বিপণনে মানুষের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। গ্রাহকের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি, সৃজনশীল ধারণা, নৈতিক সিদ্ধান্ত এবং ব্র্যান্ডের প্রতি আস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে মানুষের বিচারবুদ্ধি ও অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। এ কারণে এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্যে মানুষ ও প্রযুক্তির সমন্বয়ের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
আয়োজনের সহযোগী প্রতিষ্ঠান
ওয়ার্ল্ড মার্কেটিং ফোরাম ২০২৬-এর উপস্থাপক হিসেবে রয়েছে ওয়ালটন এবং আয়োজনটির প্রধান সহযোগী হিসেবে যুক্ত হয়েছে এসিআই মোটরস। এ ছাড়া প্রাণ, এশিয়া মার্কেটিং ফেডারেশন, ইউরোপিয়ান মার্কেটিং কনফেডারেশন, ব্র্যাক বিজনেস স্কুল এবং মার্কেটার্স ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ সম্মেলনটিকে সহযোগিতা করছে।
আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ সম্মেলন বিপণন খাতের পেশাজীবী, শিক্ষার্থী, উদ্যোক্তা এবং ব্যবসায়িক নেতাদের মধ্যে যোগাযোগ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের একটি ক্ষেত্র তৈরি করেছে।
বাংলাদেশের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ এই আয়োজন?
বাংলাদেশের ব্যবসা ও বাণিজ্য খাত ক্রমেই প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠছে। ই-কমার্স, ব্যাংকিং, টেলিযোগাযোগ, উৎপাদনশিল্প এবং ভোক্তাপণ্য খাতে গ্রাহককেন্দ্রিক বিপণন কৌশলের গুরুত্ব বাড়ছে। একই সঙ্গে ডিজিটাল বিজ্ঞাপন, তথ্য বিশ্লেষণ এবং স্বয়ংক্রিয় গ্রাহকসেবার মতো প্রযুক্তির ব্যবহারও বিস্তৃত হচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মার্কেটিং বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে স্থানীয় পেশাজীবী ও শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ। নতুন বিপণন কৌশল, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বৈশ্বিক বাজারের পরিবর্তন সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক যোগাযোগ তৈরির সুযোগও সৃষ্টি হতে পারে।
বিশেষ করে তরুণ মার্কেটার, ব্যবসায় প্রশাসনের শিক্ষার্থী এবং উদ্যোক্তাদের জন্য এ ধরনের সম্মেলন আধুনিক বিপণন সম্পর্কে জানার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে মানুষের সৃজনশীলতা ও দক্ষতার সমন্বয় কীভাবে ভবিষ্যতের ব্যবসাকে প্রভাবিত করবে, সেটিই এবারের আয়োজনের অন্যতম আলোচ্য বিষয়।
দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলন ৩০ ও ৩১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ এবং করপোরেট প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে ঢাকায় আয়োজিত এ ফোরাম বিপণন খাতে প্রযুক্তি ও মানবিক দক্ষতার সমন্বয় নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।
Follow for More