বিশ্ববিদ্যালয়ের ডরমিটরিতে তৈরি ড্রোনের গতিতে বিশ্ব রেকর্ডের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (Georgia Institute of Technology) এক শিক্ষার্থীর তৈরি জেটচালিত ড্রোন ঘণ্টায় প্রায় ৭৯০ কিলোমিটার গতিতে উড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ‘রিপার’ (Reaper) নামের ড্রোনটি তৈরি করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শিক্ষার্থী টমাস সালভো। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের তৈরি ড্রোনের সক্ষমতা ও পরীক্ষামূলক উড্ডয়নের তথ্য প্রকাশ করেন তিনি।

সালভোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ড্রোনটি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৪৯১ মাইল বা প্রায় ৭৯০ কিলোমিটার গতিতে উড়তে সক্ষম হয়েছে। রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে পরিচালিত এই ড্রোনটি সর্বোচ্চ ৬ হাজার ৫০০ ফুট উচ্চতায় উঠতে পারে। পূর্ণ গতিতে এটি প্রায় ৩১ মাইল বা ৫০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে। এ ছাড়া ড্রোনটি প্রায় ১ দশমিক ২ কেজি ওজনের পেলোড বহন করতে সক্ষম এবং টানা চার মিনিট সর্বোচ্চ গতিতে উড়তে পারে বলে দাবি করেছেন নির্মাতা।

ছোট আকারের জেটচালিত ড্রোনে বড় সাফল্যের দাবি

টমাস সালভো জানিয়েছেন, তিনি এ ধরনের মোট তিনটি ড্রোন তৈরি করেছেন এবং প্রতিটিই একই গতিতে পৌঁছেছে। তাঁর দাবি, এগুলো বিশ্বের দ্রুততম ছোট আকারের জেটচালিত ড্রোন। ড্রোনগুলো ট্রাক বা বিশেষ রেলব্যবস্থার মাধ্যমে উৎক্ষেপণ করা যায়। তাঁর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ড্রোনটি ২০ সেকেন্ডেরও কম সময়ে প্রায় ২ হাজার মিটার উচ্চতায় পৌঁছাতে সক্ষম।

আধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি ‘রিপার’

ড্রোনটি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে থ্রিডি প্রিন্টিং প্রযুক্তি। এর ইঞ্জিনে প্রচলিত নজলের পরিবর্তে বিশেষভাবে তৈরি টাইটানিয়ামের নজল সংযুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে ইঞ্জিনের অবস্থান ও ড্রোনের ভারসাম্য উন্নত করা সম্ভব হয়েছে বলে নির্মাতার বক্তব্য।

ড্রোনটির বাইরের অংশ তৈরি করা হয়েছে কাস্টম-মোল্ডেড কার্বন ফাইবার দিয়ে। পাশাপাশি ভেতরের কাঠামোতে লেজার-কাট প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এসব উপাদানের কারণে ড্রোনটির মোট ওজন প্রায় ১১ পাউন্ড বা ৫ কেজির মধ্যে রাখা সম্ভব হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ডরমিটরিতে শুরু হওয়া এই উদ্ভাবনী প্রকল্প আধুনিক অ্যারোস্পেস প্রকৌশলে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতার একটি উদাহরণ। তবে বিশ্ব রেকর্ডের দাবিটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
Follow For More