মানুষের ভয়ে পর্যটন এলাকা এড়িয়ে চলছে বন্যপ্রাণী, উঠে এলো গবেষণায়

লাওসের উত্তরাঞ্চলের সংরক্ষিত বনাঞ্চলে মানুষের উপস্থিতির কারণে বন্যপ্রাণীদের স্বাভাবিক চলাচলে প্রভাব পড়ছে। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, পর্যটকদের পদচারণা, ট্রেকিং ও কায়াকিং কার্যক্রমের কাছাকাছি এলাকা এড়িয়ে তুলনামূলক নিরিবিলি বনাঞ্চলে অবস্থান করছে মেঘলা চিতা, সূর্যভালুকসহ বিভিন্ন স্তন্যপায়ী প্রাণী।

Global Ecology and Conservation সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণাটি ২০১৩ থেকে ২০১৯ সালের ক্যামেরা ট্র্যাপের তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। গবেষকরা লাওসের নাম হা ন্যাশনাল প্রোটেক্টেড এরিয়ার ৫৯টি স্থানে ক্যামেরা স্থাপন করে বন্যপ্রাণীর উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।

গবেষণায় পুরো বনাঞ্চলে মাঝারি থেকে বড় আকারের মোট ৪৫ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণীর সন্ধান পাওয়া যায়। এর মধ্যে ১৫টি প্রজাতি বিশ্বব্যাপী বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে। পর্যটন এলাকার কাছাকাছি স্থানে গড়ে ৪.৫৮টি প্রজাতির উপস্থিতি পাওয়া গেলেও দূরবর্তী বনাঞ্চলে প্রায় দ্বিগুণ প্রজাতির সন্ধান মেলে।

গবেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে শিকারের চাপের কারণে বন্যপ্রাণীরা মানুষের প্রতি ভীত হয়ে উঠেছে। ফলে তারা পর্যটক ও শিকারির মধ্যে পার্থক্য করতে না পেরে মানুষের উপস্থিতি বেশি এমন স্থান এড়িয়ে চলে। সাম্বার হরিণ, বুনো শূকর ও কাঁকড়া-খেকো বেজি পর্যটন কার্যক্রমের প্রতি সবচেয়ে বেশি সংবেদনশীল বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।

তবে গবেষকরা মনে করেন, পরিবেশবান্ধব পর্যটন বনাঞ্চল সংরক্ষণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। পর্যটন থেকে অর্জিত আয় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে আগ্রহ বাড়াতে এবং বনাঞ্চলে অবৈধ কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করতে অবৈধ শিকার নিয়ন্ত্রণ, বনাঞ্চলের সুরক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ কার্যক্রমে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে পর্যটন কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
Follow For More