ডায়াবেটিসে প্রতিদিন ইনসুলিনের ইনজেকশন নেওয়ার ঝামেলা কমাতে নতুন সম্ভাবনার কথা জানালেন চীনের ঝেজিয়াং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা। ২০২৫ সালের নভেম্বরে Nature-এ প্রকাশিত গবেষণায় তাঁরা এমন একটি ত্বকে লাগানোর ইনসুলিন-ভিত্তিক ক্রিমের কার্যকারিতা দেখিয়েছেন, যা প্রাণী-পরীক্ষায় প্রায় ২ ঘণ্টার মধ্যে রক্তে ইনসুলিন পৌঁছে দেয় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা প্রায় ১২ ঘণ্টা স্বাভাবিক পর্যায়ে রাখতে সক্ষম হয়েছে।
গবেষণায় ব্যবহৃত হয়েছে বিশেষ ধরনের পলিজুইটারিয়ন পলিমার, যার নাম OP। এটি ত্বকের বাইরের শক্ত স্তর বা stratum corneum ভেদ করে গভীর স্তরে প্রবেশ করতে পারে। গবেষকেরা ইনসুলিনকে এই পলিমারের সঙ্গে যুক্ত করে তৈরি করেন OP–I। পরীক্ষায় দেখা যায়, সাধারণ ইনসুলিন ত্বক দিয়ে কার্যকরভাবে প্রবেশ করতে না পারলেও OP–I ত্বক পেরিয়ে রক্তে পৌঁছাতে পারে।
তবে এটিকে এখনই মানুষের জন্য প্রস্তুত ইনসুলিনের বিকল্প বলা যাবে না। গবেষণাটি প্রাণী ও পরীক্ষাগারভিত্তিক; মানুষের ওপর ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালসহ আরও পরীক্ষা প্রয়োজন।
বাংলাদেশের গবেষক ফাহমিদা হাবিব নাবিলাও সুচবিহীন ইনসুলিন সরবরাহ প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছেন। কিউশু বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দল নিয়ে তাঁর প্রকাশিত গবেষণায় ionic liquid-ভিত্তিক ট্রান্সডার্মাল প্যাচ ব্যবহার করে ইনসুলিন ত্বকের মাধ্যমে পৌঁছানোর প্রযুক্তি দেখানো হয়েছে। ২০২৫ সালের আরেক গবেষণায় তাঁদের প্যাচ ডায়াবেটিক ইঁদুরে দীর্ঘস্থায়ীভাবে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হয়।
FAQs
১. ইনসুলিন ক্রিম কীভাবে কাজ করে?
বিশেষ ত্বক-ভেদ্য পলিমারের সঙ্গে ইনসুলিন যুক্ত করে তৈরি এই ক্রিম ত্বকের স্তর পেরিয়ে রক্তসঞ্চালনে পৌঁছানোর চেষ্টা করে।
২. এই ক্রিম কি এখনই ব্যবহার করা যাবে?
না। এটি এখনো গবেষণাগার ও প্রাণী-পরীক্ষার পর্যায়ে রয়েছে। মানুষের চিকিৎসায় ব্যবহারের জন্য আরও গবেষণা ও ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল প্রয়োজন।
৩. বাংলাদেশের কোনো গবেষক কি একই প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছেন?
হ্যাঁ। কিউশু বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ফাহমিদা হাবিব নাবিলা ইনসুলিনের সুচবিহীন ট্রান্সডার্মাল প্যাচ নিয়ে গবেষণা করেছেন।