কার্বন ক্রেডিট কি সত্যিই কার্বন কমায়? বিতর্কের কারণ কী?

একটি কোম্পানি বন রক্ষার প্রকল্পে অর্থ দিয়ে ‘কার্বন ক্রেডিট’ কিনল, তারপর দাবি করল তাদের কার্বন নিঃসরণের ক্ষতিপূরণ হয়েছে। প্রশ্ন হলো, সেই প্রকল্প সত্যিই বাতাসে কার্বন কমিয়েছে তো? এই প্রশ্নই কার্বন ক্রেডিট নিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রে।

সাধারণত এক টন কার্বন ডাই-অক্সাইড সমতুল্য গ্যাস কমানো বা বাতাস থেকে সরানোর প্রমাণকে একটি কার্বন ক্রেডিট ধরা হয়। কোম্পানিগুলো তা কিনে নিজেদের নিঃসরণের ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেখায়। ২০২৪ সালের শেষ পর্যন্ত স্বেচ্ছাসেবী বাজারে ২২০ কোটি ক্রেডিট ইস্যু করা হয়েছে।

ইকোসিস্টেম মার্কেটপ্লেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে স্বেচ্ছাসেবী কার্বন বাজারের মোট লেনদেনের মূল্য ছিল প্রায় ৫৩৫ মিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের চেয়ে ২৯ শতাংশ কম। তার আগে ২০২৩ সালে ক্রেডিটের বৈধতা নিয়ে অনিশ্চয়তায় বাজারের মূল্য ৬০ শতাংশের বেশি কমে গিয়েছিল।

প্রথম প্রশ্ন অতিরিক্ততা, অর্থাৎ প্রকল্পটি না হলেও কি একই ফল হতো? কোনো বন যদি এমনিতেই কাটার ঝুঁকিতে না থাকে, তা রক্ষার ক্রেডিট আসল কমানো নয়। দ্বিতীয়ত লিকেজ, অর্থাৎ এক জায়গায় বন রক্ষা হলে গাছ কাটা অন্যত্র সরে যেতে পারে। তৃতীয়ত স্থায়িত্ব, অর্থাৎ কার্বন কি দশকের পর দশক জমা থাকবে, নাকি দাবানলে পুড়ে যাবে? এ ছাড়া একই কমানো দুবার হিসাবে ধরার ঝুঁকিও আছে।

২০২৩ সালে দ্য গার্ডিয়ান ও গবেষকদের একটি অনুসন্ধানে বলা হয়, বিশ্বের বৃহত্তম সনদদাতা সংস্থা ভেরার বর্ষাবন সুরক্ষার ক্রেডিটের ৯০ শতাংশের বেশি জলবায়ুর কোনো উপকার করেনি। ভেরা এই দাবি অস্বীকার করে বলেছে, বিশ্লেষণে বিস্তৃত অনুমান ব্যবহার করা হয়েছে এবং প্রকল্পভিত্তিক বিষয় বিবেচনা করা হয়নি।

২০২৫ সালের একটি গবেষণায় ভেরার ৯৫টি প্রকল্প পর্যালোচনা করে নিরীক্ষা প্রক্রিয়ায় পদ্ধতিগত ত্রুটির ইঙ্গিত মিলেছে। সমালোচকেরা বলেন, ভেরা নিবন্ধিত ক্রেডিটের সংখ্যা অনুযায়ী ফি পায়, তাই স্বার্থের দ্বন্দ্বের প্রশ্ন ওঠে।

বাজারের আস্থা ফেরাতে ইন্টেগ্রিটি কাউন্সিল ফর দ্য ভলান্টারি কার্বন মার্কেট ‘কোর কার্বন প্রিন্সিপলস’ নামে মানদণ্ড তৈরি করেছে। এর মাধ্যমে উচ্চমানের ক্রেডিট আলাদা করার চেষ্টা চলছে।

কার্বন ক্রেডিট ধারণাটি নিজে খারাপ নয়, কিন্তু মান ও স্বচ্ছতা না থাকলে এর ওপর আস্থা থাকে না। ক্রেডিট কেনা নিজের নিঃসরণ কমানোর বিকল্প হতে পারে কি না, সেটিও এই বিতর্কের অংশ।

Follow For More