পিংক ট্যাক্স: নারীদের পণ্যে বাড়তি দামের বাস্তবতা

পিংক ট্যাক্স (Pink Tax) বলতে মূলত নারীদের জন্য বাজারজাত করা একই ধরনের পণ্য বা সেবার দাম পুরুষদের পণ্যের চেয়ে বেশি রাখাকে বোঝায়। এটি সরকারি কোনো আইনি কর নয়; বরং বাজারে লিঙ্গভিত্তিক মূল্য পার্থক্যের একটি নাম।
সবচেয়ে পরিচিত উদাহরণ হলো ডিওডোরেন্ট। একই কোম্পানির প্রায় একই কার্যকারিতার পুরুষদের জন্য বাজারজাত ডিওডোরেন্টের চেয়ে নারীদের জন্য বাজারজাত ডিওডোরেন্টের দাম অনেক সময় বেশি হয়। একইভাবে শ্যাম্পু, বডি ওয়াশ, লোশন, পোশাক, খেলনা এবং কিছু ক্ষেত্রে ড্রাই ক্লিনিং সেবাতেও এমন পার্থক্য দেখা যায়।
নিউ ইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব কনজিউমার অ্যাফেয়ার্সের ২০১৫ সালের একটি গবেষণায় প্রায় ৮০০ লিঙ্গভিত্তিক পণ্য পরীক্ষা করা হয়। গবেষণায় দেখা যায়, নারীদের জন্য বাজারজাত পণ্যের গড় দাম পুরুষদের অনুরূপ পণ্যের চেয়ে ৭ শতাংশ বেশি।
গবেষণাটিতে ব্যক্তিগত পরিচর্যার পণ্যে এই পার্থক্য ছিল ১৩ শতাংশ, নারীদের পোশাকে ৮ শতাংশ এবং শিশুদের পোশাকে ৪ শতাংশ। এছাড়া নারীদের জন্য বাজারজাত করা শ্যাম্পু পুরুষদের অনুরূপ শ্যাম্পুর চেয়ে গড়ে ৪৮ শতাংশ বেশি দামি ছিল।
গবেষণায় পাওয়া তথ্য:-
* সব পরীক্ষিত পণ্যের গড় পার্থক্য নারীদের পণ্য ৭ শতাংশ বেশি দামি
* ব্যক্তিগত পরিচর্যার পণ্য ১৩ শতাংশ বেশি দামি
* নারীদের পোশাক ৮ শতাংশ বেশি দামি
* শিশুদের পোশাক ৪ শতাংশ বেশি দামি
* নারীদের শ্যাম্পু ৪৮ শতাংশ বেশি দামি
কোম্পানিগুলো অনেক সময় রঙ, সুগন্ধ, প্যাকেজিং বা বিপণনের ভাষা বদলে একই ধরনের পণ্যকে নারী-পুরুষের জন্য আলাদা করে বাজারজাত করে। এতে উৎপাদন খরচ কিছুটা বাড়তে পারে, তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সব ক্ষেত্রে দামের পার্থক্য উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তবে সব পণ্যেই নারীদের জন্য বেশি দাম হয় না। ২০২১ সালের একটি বড় গবেষণায় ৩ হাজারের বেশি ব্যক্তিগত পরিচর্যার পণ্য পরীক্ষা করে দেখা গেছে, ডিওডোরেন্ট ও লোশনে নারীরা বেশি দাম দিলেও শেভিং জেল বা ক্রিমে পুরুষদের পণ্যের দাম বেশি ছিল। তাই পিংক ট্যাক্সকে সব পণ্যের জন্য অভিন্ন নিয়ম নয়, বরং নির্দিষ্ট কিছু পণ্যে দেখা যাওয়া লিঙ্গভিত্তিক মূল্য বৈষম্য হিসেবে বোঝা উচিত।
দীর্ঘ সময়ে এই বাড়তি খরচ নারীদের ক্রয়ক্ষমতা কমাতে পারে। বিশেষ করে যেসব পণ্য নারীদের দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োজন, সেগুলোর দাম বেশি হলে পারিবারিক ও ব্যক্তিগত বাজেটে চাপ সৃষ্টি হয়।
পিংক ট্যাক্সকে অনেক সময় মাসিক স্বাস্থ্যসামগ্রীর ওপর বিক্রয়করের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা হয়। কিন্তু দুটি ভিন্ন বিষয়: পিংক ট্যাক্স মূলত একই ধরনের পণ্যের লিঙ্গভিত্তিক দাম পার্থক্য, আর মাসিক স্বাস্থ্যসামগ্রীর ওপর কর হলো সরকারি করনীতির বিষয়।
ভোক্তারা কেবল রঙ বা বিপণনের ভাষা দেখে না কিনে পণ্যের উপাদান, পরিমাণ ও ইউনিট দর তুলনা করতে পারেন। পাশাপাশি নীতিনির্ধারকরা একই কার্যকারিতার পণ্যে শুধু লিঙ্গের ভিত্তিতে দাম নির্ধারণ রোধে স্বচ্ছতা ও নিয়ম তৈরি করতে পারেন।
পিংক ট্যাক্স কেবল অর্থের বিষয় নয়; এটি ভোক্তা অধিকার, লিঙ্গসমতা এবং বাজারে ন্যায্য মূল্য নির্ধারণের প্রশ্ন।

Follow For More