বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে নতুন সম্ভাবনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে শিল্পকারখানার ছাদ। বড় বড় কারখানা ও বাণিজ্যিক ভবনের অব্যবহৃত ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপন করে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। এতে নতুন জমির প্রয়োজন কমিয়ে বিদ্যমান অবকাঠামো ব্যবহার করেই পরিচ্ছন্ন জ্বালানির উৎপাদন সম্প্রসারণ করা সম্ভব।
The Daily Star-এর ১২ আগস্ট ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, Infrastructure Development Company Limited (IDCOL)-এর একটি মূল্যায়নে বাংলাদেশের ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৩,৬০০ মেগাওয়াটের বেশি উৎপাদনক্ষমতা গড়ে তোলার সম্ভাবনা উঠে এসেছে। এই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে আনুমানিক ১৬,২৯৫ কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রয়োজন হতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, বস্ত্র ও অন্যান্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বড় ছাদ সৌর প্যানেল স্থাপনের উপযোগী হতে পারে। এসব প্যানেলের মাধ্যমে দিনের বেলায় উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরাসরি কারখানার কাজে ব্যবহার করা সম্ভব। ফলে প্রচলিত বিদ্যুৎ সরবরাহের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
IDCOL-এর মূল্যায়ন অনুযায়ী, ১,১৭১টি প্রতিষ্ঠানে স্বল্পমেয়াদে ১,২৬৩ মেগাওয়াট এবং আরও ৪,৭১২টি প্রতিষ্ঠানে ২,৩৫৮ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতা গড়ে তোলার সম্ভাবনা রয়েছে। এগুলো সম্ভাব্য উৎপাদনক্ষমতা, বর্তমানে উৎপাদিত বিদ্যুতের পরিমাণ নয়।
এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে প্রাথমিক বিনিয়োগ, অর্থায়ন, উপযুক্ত ছাদ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে সংযোগ গুরুত্বপূর্ণ। সূর্যালোকের পরিবর্তনে উৎপাদন ওঠানামা করায় রাতের বেলা বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য বিকল্প সরবরাহ বা সংরক্ষণব্যবস্থাও প্রয়োজন হতে পারে।
ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের সম্প্রসারণ শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জ্বালানির উৎস বৈচিত্র্যময় করতে এবং সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে প্রকৃত সাশ্রয় নির্ভর করবে প্রকল্পের ব্যয়, অর্থায়ন এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারের ধরনের ওপর।
বাংলাদেশের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো এই সম্ভাবনাকে বাস্তব উৎপাদনে রূপ দেওয়া। কার্যকর বিনিয়োগ ও নির্ভরযোগ্য গ্রিড সংযোগ নিশ্চিত করা গেলে শিল্পকারখানার ছাদ দেশের জ্বালানি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।