কোরীয় উপদ্বীপে সীমান্ত উত্তেজনা কমাতে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক আলোচনা আয়োজনের প্রস্তাব আবারও দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, দুই দেশের স্থলসীমান্তের অবস্থান নিয়ে মতপার্থক্য দূর করা, সামরিক যোগাযোগব্যবস্থা পুনরায় চালু করা এবং অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষের ঝুঁকি কমানোই আলোচনার প্রধান উদ্দেশ্য।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিবিষয়ক উপমন্ত্রী কিম হং-চল বলেন, দুই দেশের সামরিক বাহিনী সীমান্তরেখার অবস্থান নিয়ে ভিন্ন ধারণার ভিত্তিতে কাজ করলে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। এ কারণে আলোচনার মাধ্যমে সীমান্তরেখার অবস্থান যৌথভাবে যাচাই করার প্রস্তাব দিয়েছে সিউল। প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জাতিসংঘ কমান্ডকেও আলোচনায় যুক্ত করার কথা জানিয়েছে দেশটি।
কেন নতুন করে উত্তেজনা বাড়ছে?
গত ২১ সেপ্টেম্বর দুই কোরিয়ার মধ্যবর্তী অসামরিকীকৃত অঞ্চল বা ডিমিলিটারাইজড জোনে (ডিএমজেড) স্থলমাইন বিস্ফোরণে দক্ষিণ কোরিয়ার তিন সেনা আহত হন। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক তদন্তে দাবি করা হয়, সীমান্তরেখার দক্ষিণে উত্তর কোরিয়ার পুঁতে রাখা মাইনের কারণে বিস্ফোরণটি ঘটে। তবে পিয়ংইয়ং এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
এ ছাড়া সীমান্ত এলাকায় সড়ক নির্মাণ, বেড়া স্থাপন ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করার ঘটনাও দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার অভিযোগ, এসব কার্যক্রমের সময় উত্তর কোরিয়ার সেনারা কয়েকবার সামরিক সীমারেখা অতিক্রম করেছে। উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সীমান্ত নিয়ে বিরোধ মেটাতে দক্ষিণ কোরিয়া গত বছরের নভেম্বরেও সামরিক আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিল, কিন্তু তখন কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
আলোচনা কি উত্তেজনা কমাতে পারবে?
আলোচনা শুরু হলে সীমান্তরেখা নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি কমানো এবং সামরিক যোগাযোগ পুনঃস্থাপনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে উত্তর কোরিয়া নতুন প্রস্তাবে সম্মত হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস এবং সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি বক্তব্য আলোচনার পথে বাধা হয়ে থাকতে পারে।
কোরীয় উপদ্বীপের পরিস্থিতি শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য নয়, বৃহত্তর আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রস্তাবটির জবাবে উত্তর কোরিয়ার অবস্থান এবং পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপের দিকে নজর থাকবে আন্তর্জাতিক মহলের।