কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন প্রবৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করছে। তবে এই প্রযুক্তির সুবিধা সব দেশ সমানভাবে পাবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা (ওইসিডি)। সংস্থা দুটির কর্মকর্তাদের মতে, বিদ্যুৎ, ডিজিটাল অবকাঠামো ও প্রয়োজনীয় দক্ষতার ঘাটতি দূর করা না গেলে উন্নয়নশীল দেশগুলো প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সুফল থেকে পিছিয়ে পড়তে পারে।
এআই কীভাবে অর্থনৈতিক ব্যবধান বাড়াতে পারে?
২২ অক্টোবর প্রকাশিত রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এআই কার্যকরভাবে ব্যবহার করা গেলে মধ্যমেয়াদে বিশ্ব অর্থনীতির বার্ষিক প্রবৃদ্ধিতে সর্বোচ্চ ০.৫ শতাংশ পয়েন্ট যোগ হতে পারে বলে আইএমএফের ধারণা। অন্যদিকে, ওইসিডির হিসাব অনুযায়ী, সংস্থাটির সদস্য দেশগুলোতে এআইয়ের ব্যবহারে বার্ষিক উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির হার ০.৪ থেকে ১.২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।
তবে এই সম্ভাবনা বাস্তবায়নের জন্য প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার জরুরি। উন্নত দেশগুলোর অনেক প্রতিষ্ঠানের তুলনায় উন্নয়নশীল দেশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো পর্যাপ্ত প্রযুক্তি, নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ এবং দক্ষ কর্মীর অভাবে পিছিয়ে থাকতে পারে। ফলে উৎপাদন খরচ কমানো, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ তৈরির ক্ষেত্রে দেশগুলোর মধ্যে ব্যবধান বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
বাংলাদেশের জন্য কী শিক্ষা?
বাংলাদেশের জন্য এআইকে শুধু প্রযুক্তিগত পরিবর্তন হিসেবে দেখলে চলবে না। শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল অবকাঠামো এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে কর্মীদের নতুন দক্ষতা শেখানো এবং প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে।
এআই বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি বাড়াতে পারে, কিন্তু এর সুফল নিশ্চিত নয়। উন্নয়নশীল দেশগুলো সময়মতো প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে পারলে প্রযুক্তিকে নতুন অর্থনৈতিক সুযোগে রূপান্তর করতে পারবে। অন্যথায়, এআইয়ের অগ্রগতি বিদ্যমান বৈশ্বিক বৈষম্য আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।