জ্বালানি আমদানি ব্যয় ৬৫% বেড়েছে বাংলাদেশের, বাড়ছে অর্থনৈতিক চাপ

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের আমদানি ব্যয়েও বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে পেট্রোলিয়াম ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য আমদানির জন্য খোলা ঋণপত্রের (এলসি) মূল্য আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৬৫ শতাংশ বেড়েছে। এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয়, সরকারি ভর্তুকি এবং সামগ্রিক অর্থনীতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যের বরাতে দ্য ডেইলি স্টার জানিয়েছে, ২০২৬ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জ্বালানি আমদানির জন্য ৩৭০ কোটি ডলারের এলসি খোলা হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ২২৮ কোটি ডলার। অর্থাৎ, জ্বালানি আমদানির প্রতিশ্রুত ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে এই বৃদ্ধি মূলত আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার কারণে; আমদানির পরিমাণ একই হারে বাড়েনি।

অপরিশোধিত তেল আমদানির এলসির মূল্য বেড়ে প্রায় ৬৩ কোটি ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় তিন গুণ। অন্যদিকে, গ্যাসসহ অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্যের এলসির মূল্য বেড়ে ২৪০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের গড় দাম প্রতি ব্যারেল ৯৭ ডলারে পৌঁছায়, যা এক বছর আগে ছিল ৬৯ ডলার।

বাংলাদেশের জন্য এই পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ শিল্পকারখানা, পরিবহন ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানির বড় ভূমিকা রয়েছে। আমদানি ব্যয় দীর্ঘ সময় বেশি থাকলে সরকারকে জ্বালানি খাতে অতিরিক্ত ভর্তুকি দিতে হতে পারে। আবার বাড়তি ব্যয়ের একটি অংশ ভোক্তাদের ওপর চাপানো হলে পরিবহন, উৎপাদন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বাড়তে পারে।

ইতিমধ্যে গত মাসে দেশের প্রধান চার ধরনের পেট্রোলিয়াম পণ্যের দাম প্রতি লিটারে ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে বেশি দামে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনায় সরকারি ব্যয়ের ওপর চাপ বাড়ছে।

তবে তাৎক্ষণিক জ্বালানি ঘাটনির আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। সংস্থাটির বক্তব্য অনুযায়ী, ডিসেম্বর পর্যন্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে আমদানি ব্যয় আরও বাড়তে পারে।

এ অবস্থায় জ্বালানির বিকল্প উৎস নিশ্চিত করা, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পরিকল্পনা নেওয়া বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।