ডিএসসিসি ও বিদ্যানন্দের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ঢাকায় ‘বর্জ্যের বিনিময়ে বাজার’

রাজধানী ঢাকা শহরকে সম্পূর্ণ পরিচ্ছন্ন ও দূষণমুক্ত রাখা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সাধারণ নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ও বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন যৌথভাবে চালু করেছে একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ—’বর্জ্যের বিনিময়ে বাজার’। ৩১ আগস্ট ২০২৬, সোমবার রাজধানীর ৫৫ নম্বর ওয়ার্ডের হাজারীবাগ বস্তি সংলগ্ন মাঠে অত্যন্ত জমকালো আয়োজনের মাধ্যমে এই সামাজিক কর্মসূচিটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। পরিবেশ রক্ষা ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে খাদ্য সহায়তা প্রদানের সমন্বয়ে গঠিত এই উদ্যোগটি সুশীল সমাজসহ সর্বস্তরের মানুষের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় নিম্নাঞ্চলের বহু প্রান্তিক বাসিন্দা বাসাবাড়ির জমে থাকা ক্ষতিকর প্লাস্টিক ও অন্যান্য গৃহস্থালি বর্জ্য জমা দিয়ে মেলা প্রাঙ্গণে স্থাপিত অস্থায়ী স্টল থেকে চাল, মসুর ডাল, সয়াবিন তেল, খাবার লবণ, আলু ও টিস্যুসহ বিভিন্ন আবশ্যকীয় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য গ্রহণ করেন। আয়োজনে ডিএসসিসি প্রশাসক বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, ড্রেন ও নালা-নর্দমায় ফেলা অবিকল প্লাস্টিক বর্জ্য পানি নিষ্কাশনে বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে শহরজুড়ে তীব্র জলাবদ্ধতার সূচনা করে। নির্দিষ্ট বুথে বর্জ্য ফেলার এই অভ্যাসের ফলে জলাবদ্ধতার অভিশাপ কমার পাশাপাশি পরিবেশ উন্নত হবে। তিনি নিশ্চিত করেন, আগামী ১ সপ্তাহের মধ্যে ঢাকার গুলিস্তানে ১ম স্থায়ী স্টল ও ৩-৪ মাসের মধ্যে ডিএসসিসির প্রতি ওয়ার্ডে স্থায়ী স্টল খোলা হবে। অনুষ্ঠানে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের প্রধান জানান, গত ২ বছরে গৃহীত বর্জ্য বিক্রি করে সংগৃহীত ১ কোটি টাকায় প্রায় ৪ লাখ ক্ষুধার্ত মানুষের খাদ্যের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

FAQs

প্রশ্ন ১: ‘বর্জ্যের বিনিময়ে বাজার’ কর্মসূচিটি কাদের যৌথ উদ্যোগে চালু হয়েছে?

উত্তর: ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এবং সামাজিক সংগঠন ‘বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন’-এর যৌথ উদ্যোগে এই ব্যতিক্রমী কর্মসূচিটি চালু হয়েছে।

প্রশ্ন ২: সাধারণ মানুষ কীভাবে এই বাজার থেকে লাভবান হতে পারবেন?

উত্তর: বাসাবাড়ির প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন অব্যবহৃত বর্জ্য জমা দিয়ে অস্থায়ী বুথ থেকে পরিবারগুলো বিনামূল্যে চাল, ডাল, তেল, লবণ, আলু ও টিস্যুর মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহ করতে পারবেন।

প্রশ্ন ৩: ডিএসসিসির আওতাধীন এলাকায় এই প্রকল্পের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

উত্তর: আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে গুলিস্তানে এবং ৩ থেকে ৪ মাসের মধ্যে ডিএসসিসির প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে স্থায়ী স্টল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একইসাথে ১ বছরে ১০০টি ভ্রাম্যমাণ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ১ লাখ কেজি বর্জ্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

Follow for more