আজ মোবাইল ফোনের কয়েকটি ট্যাপেই টাকা পাঠানো যায় মুহূর্তে। অথচ একসময় বাংলার মানুষ কেনাকাটা করত সামুদ্রিক শামুকের ছোট খোলস কড়ি দিয়ে। কড়ি থেকে টাকা, আর টাকা থেকে মোবাইল ব্যাংকিং—এই যাত্রা বাংলার অর্থনৈতিক পরিবর্তনেরই প্রতিচ্ছবি।
মালদ্বীপ থেকে আসা কড়ি বাংলায় অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষ পর্যন্ত ব্যাপকভাবে প্রচলিত ছিল। বিশেষ করে গ্রামের হাটবাজারে ছোট লেনদেন ও খাজনা পরিশোধে এর ব্যবহার ছিল উল্লেখযোগ্য। ১৮২১ সালে প্রায় ২ হাজার ৫৬০টি কড়ির মূল্য ছিল এক রুপির সমান।
সময়ের সঙ্গে ধাতব মুদ্রা ও কাগুজে নোট কড়ির জায়গা দখল করে। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের নিজস্ব মুদ্রা চালু হয়।
বাংলাদেশে মোবাইল আর্থিক সেবার যাত্রা শুরু হয় ২০১১ সালে। ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের সেবাটি পরে ‘রকেট’ নামে পরিচিত হয়। একই বছরের ২১ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয় বিকাশ। বর্তমানে মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে টাকা পাঠানো, বিল পরিশোধ, রিচার্জ, কেনাকাটা ও রেমিট্যান্স গ্রহণ করা যায়।
২০২৬ সালের জুলাইয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিকাশের নিবন্ধিত গ্রাহক প্রায় ৮ কোটি ৪০ লাখ। একসময় হাজার হাজার কড়ি গুনে যে লেনদেন করতে হতো, এখন তা কয়েক সেকেন্ডেই সম্ভব।
কড়ি থেকে ডিজিটাল লেনদেন—মাধ্যম বদলেছে, কিন্তু সহজ ও নির্ভরযোগ্যভাবে মূল্য বিনিময়ের চাহিদা একই রয়েছে।