বাংলাদেশের প্রশাসনিক ইতিহাসে একটি অনন্য নাম ওয়ালিদ ইসলাম। ৩৫তম বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে পররাষ্ট্র ক্যাডারে যোগ দিয়ে তিনি বাংলাদেশের প্রথম তৃতীয় লিঙ্গের বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি বিশ্বের প্রথম তৃতীয় লিঙ্গের কূটনীতিক হিসেবেও আলোচনায় আসেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ সরকারের একজন কূটনীতিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ওয়ালিদ ইসলামের শিক্ষাজীবন
ওয়ালিদ ইসলাম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। শিক্ষাজীবনে তিনি মেধাবী ছাত্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে তাঁর এই সাফল্যের পথ মোটেও সহজ ছিল না। তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ হিসেবে ছোটবেলা থেকেই তাঁকে নানা সামাজিক কুসংস্কার, বৈষম্য ও পরিচয় সংকটের মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠতে হয়েছে। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, নিজের প্রকৃত পরিচয় দীর্ঘদিন গোপন রাখতে বাধ্য হয়েছিলেন, কারণ সমাজে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের নিয়ে প্রচলিত নেতিবাচক ধারণা তাঁকে প্রায়ই বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি করত।
তার জীবনের সংগ্রাম
বিশ্ববিদ্যালয় জীবন এবং কর্মজীবনের শুরুতেও তাঁকে বুলিং, বিদ্রূপ ও সামাজিক বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। তবে একই সঙ্গে তিনি বন্ধু, সহপাঠী ও সহকর্মীদের কাছ থেকে সমর্থনও পেয়েছেন, যা তাঁকে এগিয়ে যেতে সাহস জুগিয়েছে। ওয়ালিদের মতে, সমাজে সম্মান ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষেরাও দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম।
নিজের পরিচয় প্রকাশ করার পর তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের লুকোচুরি থেকে মুক্ত হয়ে তিনি স্বস্তি অনুভব করছেন। তাঁর জীবনসংগ্রাম শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়; এটি বাংলাদেশের তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও সামাজিক স্বীকৃতির লড়াইয়েরও প্রতীক। অধ্যবসায়, মেধা এবং আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে ওয়ালিদ ইসলাম প্রমাণ করেছেন যে প্রতিভা ও যোগ্যতার কোনো লিঙ্গ পরিচয় নেই।
FAQs
Q1.ওয়ালিদ ইসলাম কে?
Ans:ওয়ালিদ ইসলাম বাংলাদেশের প্রথম তৃতীয় লিঙ্গের বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তা এবং বিশ্বের প্রথম তৃতীয় লিঙ্গের কূটনীতিক হিসেবে পরিচিত
Q2.ওয়ালিদ ইসলাম কোন বিসিএসের মাধ্যমে ক্যাডার হন?
Ans:তিনি ৩৫তম বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে পররাষ্ট্র ক্যাডারে যোগদান করেন।
Q3:ওয়ালিদ ইসলাম কোথায় পড়াশোনা করেছেন?
Ans:তিনি Jahangirnagar University-এর ফার্মেসি বিভাগ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।