তুরস্কে LGBTQ+ কমিউনিটির ওপর অভিযান, ১৬২ জনের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া

তুরস্কে LGBTQ+ কমিউনিটির বিরুদ্ধে বড় পরিসরে অভিযান চালিয়েছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গে বার, নাইটক্লাব, LGBTQ+ অধিকারকর্মীদের বাসা ও বিভিন্ন সংগঠনের কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়েছে। দেশটির বিচারমন্ত্রী আকিন গুরলেক জানিয়েছেন, ১৫টি প্রদেশে ১৬২ জন সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একই অভিযানে ৯টি সংগঠন ও ১৩টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও তদন্তের আওতায় এসেছে।

১৩ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া অভিযানে আটকের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সূত্রে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। রয়টার্সের প্রাথমিক প্রতিবেদনে ২৬ জন আটকের কথা বলা হয়; পরবর্তী প্রতিবেদনে অন্তত ৪৭ জন এবং অন্য সূত্রে ৬০ জনের বেশি আটকের তথ্য এসেছে। ফলে ১৬২ সংখ্যাটি মোট আটক ব্যক্তির সংখ্যা নয়; এটি আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় থাকা সন্দেহভাজনের সংখ্যা

সরকারি ভাষ্য অনুযায়ী, “My Family is Safe” বা ‘আমার পরিবার নিরাপদ’ নামের এই অভিযান প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের ঘোষিত ‘Decade of Family and Population’ কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত। সরকারের দাবি, শিশু, পরিবার ও সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষাই এর উদ্দেশ্য। অভিযানে মাদক, ডিজিটাল সরঞ্জাম, চোরাচালান করা অ্যালকোহল ও একটি আগ্নেয়াস্ত্র জব্দের কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

অন্যদিকে LGBTQ+ অধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এই অভিযান তাদের সংগঠন ও অধিকারকর্মীদের ওপর বাড়তে থাকা চাপের অংশ। Kaos GL জানিয়েছে, তাদের সদস্যদেরও আটক করা হয়েছে এবং বেশ কিছু LGBTQ+ সংগঠনের ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে প্রবেশাধিকার সীমিত করা হয়েছে।

FAQs

১. তুরস্কে কতজনের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে?
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ১৫টি প্রদেশে ১৬২ জনের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

২. অভিযানের কারণ কী বলছে তুরস্ক সরকার?
সরকার বলছে, শিশু, পরিবার ও সামাজিক মূল্যবোধ সুরক্ষার অংশ হিসেবে অভিযানটি পরিচালনা করা হয়েছে।

৩. তুরস্কে সমলিঙ্গের সম্পর্ক কি অবৈধ?
না। তুরস্কে সমলিঙ্গের সম্পর্ক নিজে অপরাধ হিসেবে নিষিদ্ধ নয়। তবে LGBTQ+ জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছে।

Follow for more