১২৮ ফলের জাত উদ্ভাবনের নেপথ্য কারিগর অধ্যাপক এম. এ. রহিম, পেলেন স্বাধীনতা পুরস্কার

একটি নতুন ফলের জাত উদ্ভাবনের পেছনে থাকে বছরের পর বছর গবেষণা, মাঠপর্যায়ের পরীক্ষা ও অসংখ্য গাছের বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণ। বাংলাদেশের ফল গবেষণায় এমন দীর্ঘ গবেষণাযাত্রার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নাম অধ্যাপক ড. এম. এ. রহিম। ১২৮টি নতুন ফলের জাত উদ্ভাবনের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা এবং জেনেটিক সম্পদ সংরক্ষণে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৬ সালে তিনি পেয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা স্বাধীনতা পুরস্কার। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সরকারি তালিকাতেও তাঁকে ‘গবেষণা ও প্রশিক্ষণ’ ক্ষেত্রে পুরস্কারপ্রাপ্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগে শিক্ষকতা ও গবেষণার মধ্য দিয়ে তাঁর ফল গবেষণার পথচলা শুরু। ১৯৯১ সালে বাউ জার্মপ্লাজম সেন্টার প্রতিষ্ঠার পর থেকেই তিনি এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কেন্দ্রটি দেশি ও বিদেশি ফলের জার্মপ্লাজম সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং নতুন জাত উদ্ভাবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ২০১৪ সালের এক প্রতিবেদনে কেন্দ্রটিতে ১৭৫টি ফল প্রজাতির ৬৮৮ জাতের প্রায় ১১ হাজার ২৪৫টি মাতৃগাছ থাকার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছিল।

অধ্যাপক রহিমের গবেষণার অন্যতম পরিচিত সাফল্য বাউকুল। এর পাশাপাশি আম, পেয়ারা, লিচু, কুল, লেবু, জাম্বুরা, কামরাঙা, জামরুলসহ বিভিন্ন ফলের উন্নত জাত উদ্ভাবন ও গবেষণায় তাঁর অবদান রয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো হলো—

  • ১২৮টি ফলের জাত উদ্ভাবনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা।
  • দেশি ও বিলুপ্তপ্রায় ফলের জার্মপ্লাজম সংগ্রহ ও সংরক্ষণ।
  • বিদেশি ফলের বাংলাদেশে অভিযোজন নিয়ে গবেষণা।
  • কৃষকের কাছে উন্নত জাত ও চাষপ্রযুক্তি পৌঁছে দিতে প্রশিক্ষণ ও সম্প্রসারণ কার্যক্রম।
  • বাউকুলের মতো উন্নত জাতের বাণিজ্যিক চাষে ভূমিকা।

শুধু নতুন জাত উদ্ভাবন নয়, ভবিষ্যৎ গবেষণার জন্য জেনেটিক বৈচিত্র্য সংরক্ষণকেও তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন। ২০২৬ সালের ৫ মার্চ সরকার স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য তাঁর নাম ঘোষণা করে; পরে ১৬ এপ্রিল পুরস্কার প্রদান করা হয়।

একজন গবেষকের কয়েক দশকের শ্রম যখন গবেষণাগার ছাড়িয়ে কৃষকের বাগান ও বাজারে পৌঁছে যায়, তখন তার প্রভাব পরিমাপ করা যায় বাস্তব কৃষির পরিবর্তনে। অধ্যাপক এম. এ. রহিমের দীর্ঘ ফল গবেষণা, জাত উদ্ভাবন ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি তাই বাংলাদেশের কৃষি গবেষণার জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।

FAQs

১. অধ্যাপক এম. এ. রহিম কেন স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছেন?
গবেষণা ও প্রশিক্ষণে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬ পেয়েছেন।

২. অধ্যাপক এম. এ. রহিমের সঙ্গে কতটি ফলের জাত উদ্ভাবন জড়িত?
তাঁর দীর্ঘ গবেষণা কার্যক্রমের সঙ্গে ১২৮টি নতুন ফলের জাত উদ্ভাবনের সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করা হয়।

৩. বাউ জার্মপ্লাজম সেন্টারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কী?
১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাউ জার্মপ্লাজম সেন্টারের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই তিনি এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং দীর্ঘদিন নেতৃত্ব দিয়েছেন।

৪. বাউকুল কেন গুরুত্বপূর্ণ?
বাউকুল বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ফল চাষে জনপ্রিয়তা পাওয়া উন্নত জাতগুলোর একটি। এর বিস্তার কৃষকের জন্য নতুন আয়ের সুযোগ তৈরি করেছে।

Follow for more