শিক্ষকদের সম্মানী বাড়ানো প্রয়োজন, যেন তারা দ্বিতীয় কাজ করতে বাধ্য না হন: জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী

শিক্ষকরা যেন সংসার চালাতে গিয়ে পার্ট-টাইম বা দ্বিতীয় কোনো কাজ করতে বাধ্য না হন এবং তাদের সম্পূর্ণ সময় ও মেধা শিক্ষার্থীদের পেছনে ব্যয় করতে পারেন, সে জন্য তাদের সম্মানী বাড়ানো প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (৮ জুলাই ২০২৬) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে এক প্রশ্নের জবাবে সরকারপ্রধান এই কথা বলেন। এনসিপি-র সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষকদের আর্থিক বাস্তবতার কথা তুলে ধরে বলেন, অনেক শিক্ষকই সংসার চালাতে ক্লাস শেষে কৃষিকাজ বা দ্বিতীয় কোনো চাকরিতে যেতে বাধ্য হন, যা শিক্ষার মানের ওপর প্রভাব ফেলে।

শিক্ষাখাতে বরাদ্দ ও পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা

সংসদ অধিবেশনে শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, এবারের জাতীয় বাজেটে শিক্ষাখাতে জিডিপির (GDP) ২ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে সরকারের একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা রয়েছে, যার লক্ষ্য আগামী ৫ বছরের মধ্যে এই বরাদ্দ ধাপে ধাপে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করা। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষকদের যদি আমরা সঠিকভাবে প্রশিক্ষণ দিতে না পারি এবং তাদের সম্মানী আশানুরূপ বৃদ্ধি করতে না পারি, তাহলে তাদের কাছ থেকে মানসম্মত বা ভালো কিছু প্রত্যাশা করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

মানবসম্পদ উন্নয়ন ও শিক্ষক প্রশিক্ষণ

শিক্ষাখাতের পূর্ববর্তী পরিস্থিতির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, অতীতে স্বৈরাচারী শাসনের সময়ে শুধু বড় বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন তৈরি হয়েছে, কিন্তু প্রকৃত মানবসম্পদের কোনো টেকসই উন্নয়ন করা হয়নি। তিনি আরও যোগ করেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থার মানকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে হলে অবকাঠামোর চেয়ে শিক্ষক প্রশিক্ষণকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। সেই সাথে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের সামগ্রিক আর্থিক ও সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম জরুরি লক্ষ্য।

 

 FAQs

Q1: শিক্ষকরা দ্বিতীয় কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন কেন—এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী কী বলেছেন?

Ans: প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, অনেক প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষক আর্থিক অনটনের কারণে সংসার চালাতে বাধ্য হয়ে স্কুল শেষে পার্ট-টাইম চাকরি বা কৃষিকাজের মতো দ্বিতীয় কোনো পেশায় যুক্ত হন।

Q2: শিক্ষাখাতে বর্তমান বাজেটে বরাদ্দ কত এবং সরকারের আগামী ৫ বছরের পরিকল্পনা কী?

Ans: এবারের বাজেটে শিক্ষাখাতে জিডিপির ২ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং আগামী ৫ বছরের মধ্যে এই বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

Q3: শিক্ষাব্যবস্থার মান বাড়াতে প্রধানমন্ত্রী কোন দুটি বিষয়ের ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছেন?

Ans: শিক্ষাব্যবস্থার মান বাড়াতে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষকদের মানসম্মত পেশাগত প্রশিক্ষণ এবং তাদের আর্থিক অবস্থা বা সম্মানীর মান বাড়ানোর ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছেন।