গ্রাম ও পল্লিকেই জাতীয় উন্নয়নের ভিত্তি বিবেচনা করছে বর্তমান সরকার: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ভূমিকা ও বাণীর প্রেক্ষাপট

উন্নত ও সমৃদ্ধ পল্লি অঞ্চল গড়ে তোলা ছাড়া কোনোভাবেই একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণ সম্ভব নয়। তাই একটি ন্যায়ভিত্তিক, অংশগ্রহণমূলক ও জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বর্তমান নির্বাচিত সরকার দেশের গ্রাম ও পল্লি অঞ্চলকেই জাতীয় উন্নয়নের মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করছে। সোমবার (৬ জুলাই ২০২৬) দেশব্যাপী প্রথমবারের মতো উদ্‌যাপিত হতে যাওয়া ‘জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে রবিবার (৫ জুলাই) দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি দেশে প্রথমবারের মতো এই দিবসটি উদ্‌যাপনের সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত সময়োপযোগী একটি পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।

পল্লি উন্নয়নের গুরুত্ব ও ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা

প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও সামাজিক জীবনের মূল চালিকাশক্তি হলো দেশের পল্লি অঞ্চল, যেখানে দেশের প্রায় ৬৮ শতাংশ মানুষ বসবাস করে। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমানের উন্নয়ন ও স্থানীয় সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ১৯৭৭ সালে মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯ দফা কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষির আধুনিকায়ন, সমবায় ব্যবস্থা সম্প্রসারণ ও তৃণমূলের জনগণকে সম্পৃক্ত করতে ‘গ্রাম সরকার ব্যবস্থা’ প্রবর্তনের মধ্য দিয়ে পল্লি অর্থনীতির সুদূরপ্রসারী রূপরেখা তৈরি করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলেও গ্রামীণ সড়ক যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়ন, সেচ সম্প্রসারণ ও কৃষি ঋণ মওকুফের মাধ্যমে এই পল্লি অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী গতি প্রদান করা হয়।

বর্তমান উদ্যোগ ও ভবিষ্যৎ প্রত্যয়

দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় পর জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলনে গঠিত বর্তমান নির্বাচিত সরকার তাদের ‘নির্বাচনি ইশতেহার-২০২৬’ বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর। বাণীতে প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার ইতিমধ্যে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভাগ্যবদলে কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, খাল পুনঃখনন, কৃষি ঋণ মওকুফ এবং নারী ও যুবসমাজের দক্ষতা বৃদ্ধিসহ নানা বাস্তবমুখী কর্মসূচির বাস্তবায়ন শুরু করেছে। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য ‘উন্নত পল্লি, সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’-এর চেতনাকে ধারণ করে একটি স্বনির্ভর ও আধুনিক গ্রাম গড়ে তুলতে তিনি স্থানীয় সরকার ও পল্লি উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের সব দপ্তর এবং অংশীজনকে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। পরিশেষে তিনি দিবসটির সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করে দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান।

FAQs

 

Q1: প্রথম ‘জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬’ কবে উদ্‌যাপিত হচ্ছে এবং এর প্রতিপাদ্য কী?

Ans: প্রথমবারের মতো এই দিবসটি সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬ তারিখে উদ্‌যাপিত হচ্ছে। এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— ‘উন্নত পল্লি, সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

Q2: প্রধানমন্ত্রীর বাণীতে দেশের কত শতাংশ মানুষের গ্রামে বসবাসের কথা বলা হয়েছে?

Ans: প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে উল্লেখ করেছেন যে, বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র হলো গ্রামীণ অঞ্চল এবং দেশের প্রায় ৬৮ শতাংশ মানুষ গ্রামে বসবাস করেন।

Q3: বর্তমান নির্বাচিত সরকার গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগণের জন্য কী কী কর্মসূচি শুরু করেছে?

Ans: সরকার নির্বাচনি ইশতেহার-২০২৬ অনুযায়ী পল্লির প্রান্তিক ও দরিদ্র মানুষের উন্নয়নে ইতিমধ্যে কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, খাল পুনঃখনন, কৃষি ঋণ মওকুফ এবং নারী ও যুবকদের দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক কর্মসূচি শুরু করেছে।

Follow for more