নেপালের রাসুয়ায় ভয়াবহ ফ্ল্যাশ বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির পর জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য বড় গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণকারী দেশগুলোর কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে নেপাল।
মঙ্গলবার স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল কান্টিপুর টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল বলেন, জলবায়ু সংকট তৈরিতে নেপালের ভূমিকা ‘প্রায় নগণ্য’ হলেও এর ভয়াবহ প্রভাব দেশটিকেই বহন করতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, “আমরা আমাদের কূটনৈতিক কাঠামো ‘সহায়তা’ থেকে ‘ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণ’-এর দিকে নিয়ে যাচ্ছি। এটি দাতব্যের বিষয় নয়; এটি আইনি ও নৈতিক দায়বদ্ধতার বিষয়।”
খানাল ঐতিহাসিকভাবে বড় কার্বন নিঃসরণকারী দেশ হিসেবে চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের কথা উল্লেখ করে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকার রয়েছে।
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে জলবায়ু ক্ষতিপূরণের বিষয়টি আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এ বিষয়ে নেপালের অর্থ মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছে আনুষ্ঠানিক জলবায়ু ক্ষতিপূরণ দাবিপত্র পাঠিয়েছে। পাশাপাশি জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরার প্রস্তুতি চলছে।
নেপাল সরাসরি জাতিসংঘেও বিষয়টি উত্থাপনের কথা ভাবছে। এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহের ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে অংশগ্রহণ এবং সেখানে সাম্প্রতিক ভোতেকোশি বন্যাসহ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব তুলে ধরার বিষয়ে আলোচনা চলছে।
খানাল সতর্ক করে বলেন, হিমালয়ের হিমবাহগুলো বিলীন হলে গঙ্গা ও ত্রিশূলীর মতো নদীর ওপর নির্ভরশীল দক্ষিণ এশিয়ার দুই শতাধিক কোটি মানুষের পানি নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়বে।