বাংলাদেশের নিটওয়্যার শিল্প এখন গভীর সংকটে। গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে প্রায় ৫৫ শতাংশ নিটওয়্যার কারখানা তাদের আন্তর্জাতিক বায়ারদের কাছ থেকে অর্ডার বাতিল বা কমে যাওয়ার মুখোমুখি হয়েছে। বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) তাদের সদস্য কারখানাগুলোর মধ্যে পরিচালিত এক জরিপে এ চিত্র উঠে এসেছে।
জরিপটি নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, চট্টগ্রাম, ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার প্রায় ২০ শতাংশ সদস্য কারখানার (প্রায় ১৬০টি) তথ্যের ভিত্তিতে করা হয়েছে। আগস্টের ২১ থেকে সেপ্টেম্বরের ১৪ তারিখ পর্যন্ত এই তথ্য সংগ্রহ করা হয়। বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান জানিয়েছেন, চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
জরিপের আরও কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য:
প্রায় ৮৭ শতাংশ কারখানা সময়মতো শিপমেন্ট করতে পারেনি।
প্রায় ৬০ শতাংশ বায়ারদের ছাড় দিতে বাধ্য হয়েছে।
প্রায় ৭৮ শতাংশ কারখানায় আংশিক উৎপাদন বন্ধ হয়েছে।
প্রায় ৯২ শতাংশ কারখানাকে বিকল্প জ্বালানির জন্য বাড়তি খরচ বহন করতে হয়েছে এবং একই হারে শ্রম ও কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়েছে।
প্রায় ৮৯ শতাংশ বায়ারদের আস্থা হারানোর ঝুঁকিতে আছে।
প্রায় ৫৯ শতাংশ কারখানা ব্যাংক ঋণ খেলাপির ঝুঁকিতে।
প্রায় ৭ শতাংশ কারখানা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।
গ্যাস সংকট ২০ জুলাই থেকে শুরু হয় এবং গ্যাসের চাপ স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ৭৮ শতাংশ কম ছিল। ৭৫ শতাংশ কারখানা গ্যাস সংকটে এবং ৯০ শতাংশ বিদ্যুৎ সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিকেএমইএ নেতৃত্ব বলছে, পোশাক খাত কঠিন সময় পার করছে। কিছু কারখানা ভালো করলেও অনেকগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। সরকার নীতিগত সহায়তা দিলে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা সম্ভব।
এই সংকট শুধু অর্ডার কমে যাওয়া নয় — উৎপাদন বিলম্ব, অতিরিক্ত খরচ, শ্রমিকদের কর্মঘণ্টা নষ্ট এবং বায়ারদের আস্থা হারানোর মতো দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে নিটওয়্যার খাতকে।
FAQs
Q1: কত শতাংশ নিটওয়্যার কারখানার অর্ডার বাতিল বা কমেছে?
Ans: বিকেএমইএর জরিপ অনুযায়ী প্রায় ৫৫ শতাংশ কারখানা অর্ডার বাতিল বা কমে যাওয়ার মুখোমুখি হয়েছে।
Q2: এই সংকটের মূল কারণ কী?
Ans: চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট। গ্যাসের চাপ স্বাভাবিকের চেয়ে ৭৮% কম এবং বেশিরভাগ কারখানা বিদ্যুৎ সংকটেও ক্ষতিগ্রস্ত।
Q3: জরিপে আর কী কী উদ্বেগজনক তথ্য এসেছে?
Ans: ৮৭% কারখানায় শিপমেন্ট বিলম্ব, ৬০% ছাড় দিতে বাধ্য, ৭৮% আংশিক উৎপাদন বন্ধ, ৯২% অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ ও কর্মঘণ্টা নষ্ট, ৮৯% বায়ার আস্থা হারানোর ঝুঁকি এবং ৭% সম্পূর্ণ বন্ধ।