মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক সংঘাত এখন সরাসরি প্রভাব ফেলছে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে। সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (SANEM)-এর একটি নতুন গবেষণা বলছে, মার্কিন-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ আগামী দুই বছরে বাংলাদেশের জিডিপি ৩ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিতে পারে। গবেষণায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের আমদানিনির্ভর জ্বালানি খাত, মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা রেমিট্যান্স এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য নেটওয়ার্কের ওপর ব্যাপক নির্ভরতাই দেশকে এই ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
গবেষকরা তিনটি ভিন্ন পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য ক্ষতির হিসাব করেছেন। প্রথম পরিস্থিতিতে, সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হলে অপরিশোধিত তেল ও এলএনজির দাম যথাক্রমে ৪০ ও ৫০ শতাংশ বাড়তে পারে, যাতে বাংলাদেশের জিডিপি ১.২ শতাংশ সংকুচিত হবে। দ্বিতীয় পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক শিপিং রুট বিঘ্নিত হলে মালবাহী খরচ ২৫ শতাংশ ও রপ্তানি চাহিদা ৫ শতাংশ কমে জিডিপি ১.৪ শতাংশ কমতে পারে। আর সবচেয়ে ভয়াবহ তৃতীয় পরিস্থিতিতে, জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি, শিপিং বিপর্যয় ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে রেমিট্যান্স ১০ শতাংশ কমে গেলে জিডিপি প্রায় ৩ শতাংশ পড়ে যেতে পারে। এর সাথে বিশ্বব্যাংকও সতর্ক করেছে, দীর্ঘস্থায়ী মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি বাড়াবে, চলতি হিসাবের ঘাটতি বাড়াবে এবং জ্বালানি ভর্তুকিতে সরকারের বাড়তি চাপ তৈরি করবে।
ইরান যুদ্ধের প্রভাব ইতোমধ্যে মাঠ পর্যায়ে অনুভূত হচ্ছে। গার্মেন্ট কারখানার মালিকরা জানিয়েছেন, বিভিন্ন কারণে কারখানার উৎপাদন ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কমে গেছে এবং ব্যবসায়িক খরচ ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, পরিবহন ও লজিস্টিক্স খাত সবচেয়ে বেশি ৫ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, এরপর রয়েছে জ্বালানি-নির্ভর উৎপাদন খাত ৪ শতাংশ এবং কৃষি খাত ১.৫ শতাংশ। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, এই সংকট দীর্ঘায়িত হলে ভারত, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ার মতো প্রতিযোগী দেশগুলো বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের অংশ দখল করে নিতে পারে।
FAQs
Q1: ইরান যুদ্ধে বাংলাদেশের জিডিপি কতটা কমতে পারে?
Ans: SANEM-এর গবেষণা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ পর্যন্ত জিডিপি কমতে পারে।
Q2: সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে কোন খাত?
Ans: পরিবহন ও লজিস্টিক্স খাত সবচেয়ে বেশি ৫ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
Q3: রেমিট্যান্সে কী প্রভাব পড়তে পারে?
Ans: মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে প্রবাসী আয় ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।