সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশ যাওয়ার প্রবণতায় এক নতুন মোড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রথাগতভাবে পশ্চিমা বিশ্ব কিংবা পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত শিক্ষার্থীদের প্রধান পছন্দ হলেও, বর্তমানে প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য পাকিস্তানকে বেছে নিচ্ছেন। পরিসংখ্যান বলছে, বর্তমানে পাকিস্তানের বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ১,৫০০-এর বেশি বাংলাদেশী শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন এবং এই সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে।
হঠাৎ এই পরিবর্তনের পেছনে সবচেয়ে বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে পাকিস্তান সরকারের ‘আল্লামা ইকবাল স্কলারশিপ’ প্রকল্প। এই আন্তর্জাতিক বৃত্তি কর্মসূচির আওতায় প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৪০০ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে সম্পূর্ণ অর্থায়নে (১০০% টিউশন ফি, আবাসন ও মাসিক ভাতা সহ) আন্ডারগ্রাজুয়েট ও পোস্টগ্রাজুয়েট কোর্সে ভর্তির সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। ইউরোপ বা আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যেখানে বার্ষিক টিউশন ফি ১০,০০০ থেকে ৩০,০০০ ডলার পর্যন্ত হয়ে থাকে, সেখানে পাকিস্তানের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্কলারশিপ ছাড়া নিজস্ব খরচে পড়লেও বছরে মাত্র ১,৫০০ থেকে ২,৫০০ ডলার খরচ হয়।
পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত বা ইউরোপের চেয়ে পাকিস্তানকে এগিয়ে রাখার পেছনে আরেকটি বড় কারণ হলো জীবনযাত্রার অত্যন্ত কম খরচ এবং সাংস্কৃতিক সামঞ্জস্য। মুসলিম প্রধান দেশ হওয়ায় সেখানে হালাল খাবার ও ধর্মীয় পরিবেশের সুবিধা রয়েছে, যা অনেক সময় ইউরোপ বা ভারতের কিছু অঞ্চলে পাওয়া কঠিন হয়। এছাড়া পাকিস্তানের ‘নুস্ট’ (NUST) বা ‘কায়েদ-ই-আজম’ বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো কিউএস (QS) ওয়ার্ল্ড র্যাংকিংয়ে বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে।
সংক্ষেপে বলতে গেলে, শতভাগ সরকারি বৃত্তির নিশ্চয়তা, বৈশ্বিক মানদণ্ডের শিক্ষা এবং পশ্চিমা দেশগুলোর তুলনায় ৮০% পর্যন্ত কম খরচের কারণেই আজ বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের কাছে পাকিস্তান একটি জনপ্রিয় শিক্ষা গন্তব্য হয়ে উঠেছে।
FAQs
১. বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য পাকিস্তানে কী ধরনের স্কলারশিপ রয়েছে?
পাকিস্তান সরকার বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য সম্পূর্ণ অর্থায়িত “আল্লামা ইকবাল স্কলারশিপ” (Allama Iqbal Scholarships) প্রদান করে। এর আওতায় টিউশন ফি মওকুফ, বিনামূল্যে আবাসন এবং প্রতি মাসে নির্দিষ্ট হারে পকেট মানি বা ভাতা দেওয়া হয়।
২. পাকিস্তানে পড়াশোনার খরচ কেমন?
স্কলারশিপ ছাড়া নিজস্ব অর্থায়নে পড়াশোনা করলেও পাকিস্তানে খরচ ইউরোপ বা আমেরিকার তুলনায় অনেক কম। বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্স ভেদে বছরে মাত্র ১,৫০০ থেকে ২,৫০০ মার্কিন ডলার (প্রায় ১.৫ থেকে ২.৫ লাখ টাকা) খরচ হয়, যা ভারতের অনেক প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়েও সাশ্রয়ী।
৩. ভারত বা ইউরোপের চেয়ে কেন শিক্ষার্থীরা পাকিস্তানকে বেছে নিচ্ছেন?
মূলত ১০০% সরকারি স্কলারশিপের সুবিধা, অত্যন্ত কম জীবনযাত্রার খরচ এবং শতভাগ হালাল খাবার ও ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মিল থাকার কারণে অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক ইউরোপ বা ভারতের চেয়ে পাকিস্তানকে বেশি সুবিধাজনক মনে করছেন।
৪. পাকিস্তানের কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয় বৈশ্বিকভাবে স্বীকৃত?
পাকিস্তানের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্সেস অ্যান্ড টেকনোলজি (NUST), কায়েদ-ই-আজম বিশ্ববিদ্যালয় এবং কিং এডওয়ার্ড মেডিকেল ইউনিভার্সিটির মতো প্রতিষ্ঠানগুলো কিউএস (QS) ওয়ার্ল্ড র্যাংকিংয়ে বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে এবং এদের ডিগ্রি আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য।