বিশ্বের বড় অর্থনীতিগুলোতে দীর্ঘমেয়াদি ঋণের খরচ নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ৩০ বছর মেয়াদি বন্ডের সুদের হার ৫.৩৩ শতাংশে উঠেছে, যা ২০০৭ সালের জুনের পর সর্বোচ্চ। যুক্তরাজ্যে দীর্ঘমেয়াদি ঋণের হার ৫.৮৫ শতাংশে পৌঁছেছে। জার্মানি ও জাপানেও অনুরূপ উত্থান দেখা গেছে।
এই বৃদ্ধির পেছনে প্রধান কারণ তেলের দাম বৃদ্ধি। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার জেরে ব্রেন্ট ক্রুড ৯০ ডলারের উপরে উঠেছে। বিনিয়োগকারীরা আশঙ্কা করছেন, এতে মুদ্রাস্ফীতি আবার বাড়তে পারে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার বাড়াতে বাধ্য হতে পারে।
এর পাশাপাশি সরকারগুলোর উচ্চ ঋণের মাত্রা এবং এআই ও ডেটা সেন্টার নির্মাণে করপোরেট খাতের ব্যাপক ঋণ গ্রহণও চাপ বাড়াচ্ছে। প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো এআই অবকাঠামোর জন্য বিপুল পরিমাণ বন্ড ইস্যু করছে, যা সরকারি বন্ডের চাহিদার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা উচ্চতর রিটার্ন দাবি করছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি পূর্ণাঙ্গ বন্ড মার্কেট সংকট নয়, তবে ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, মুদ্রাস্ফীতি ও রাজস্ব অবস্থার কারণে দীর্ঘমেয়াদি ঋণের খরচ বাড়ছে। এর প্রভাব গৃহঋণ, গাড়ির ঋণ ও ক্রেডিট কার্ডের সুদের হারেও পড়তে পারে।
FAQs
Q1: বৈশ্বিক ঋণের খরচ কেন বাড়ছে?
Ans: তেলের দাম বৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা, সরকারি ঋণের চাপ এবং এআই অবকাঠামোতে করপোরেট ঋণের কারণে।
Q2: কোন দেশগুলোতে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে?
Ans: যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও জাপানে দীর্ঘমেয়াদি বন্ড ইয়েল্ড নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।
Q3: এর প্রভাব সাধারণ মানুষের ওপর কী?
Ans: বন্ধক, গাড়ির ঋণ ও অন্যান্য ভোক্তা ঋণের সুদের হার বাড়তে পারে।