বার্লিনে বিশ্ব বিজ্ঞানের মহামিলন: ফলিং ওয়ালস সায়েন্স সামিট ২০২৬

জার্মানির রাজধানী বার্লিনে ৬ থেকে ৯ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হচ্ছে ফলিং ওয়ালস সায়েন্স সামিট ২০২৬। এটি এই সম্মেলনের ১৮তম আয়োজন। ২০০৯ সালে শুরু হওয়া এই সম্মেলনে বিজ্ঞান, ব্যবসা, গণমাধ্যম ও সমাজের নানা পর্যায়ের নেতারা এক মঞ্চে বসেন। উদ্দেশ্য, বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানের সবচেয়ে প্রভাবশালী অগ্রগতিগুলো সবার সামনে তুলে ধরা এবং বৈশ্বিক সমস্যার সমাধানে সহযোগিতা বাড়ানো।

এ বছর বিশ্বজুড়ে ২ হাজার প্রকল্প জমা পড়েছিল। ৪৭৪টি বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এগুলো মনোনীত করে। ছয়টি আন্তর্জাতিক বিচারক প্যানেল সেখান থেকে ছয়টি বিভাগে বছরের সেরা বিজ্ঞান অর্জন বেছে নিয়েছে। বাছাইয়ের সময় যুগান্তকারী সম্ভাবনা, উদ্ভাবন, সামাজিক প্রাসঙ্গিকতা, একাডেমিক মান ও বিভিন্ন বিষয়ের মধ্যে প্রভাব দেখা হয়েছে। বিজয়ীদের কাজের কিছু দিক এখানে তুলে ধরা হলো।

জীবনবিজ্ঞানে সেরা হয়েছেন জার্মানির এফএইউ এরলাঙ্গেন-নুরেমবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের জর্জ শেট। ক্যানসারের জন্য তৈরি সিএআর টি-সেল চিকিৎসা তিনি অটোইমিউন রোগে প্রয়োগ করেছেন। এতে রোগীরা নিয়মিত ওষুধ ছাড়াই দীর্ঘস্থায়ী উপশম পেতে পারেন।

পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে সেরা হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভিড অসচালম। তিনি প্রথমবারের মতো প্রোটিনকে কোয়ান্টাম প্রযুক্তির মৌলিক একক কিউবিটে রূপ দিয়ে দেখিয়েছেন। এই প্রোটিন জীবন্ত কোষের ভেতরে ব্যবহার করা যায়, ফলে কোষের ভেতরের ঘটনা কোয়ান্টাম স্তরে দেখার নতুন পথ খুলেছে।

প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিভাগে জয়ী হয়েছেন লস অ্যাঞ্জেলেসের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউ হুয়াং। তাঁর পদ্ধতিতে হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল অনেক বেশি টেকসই হয় এবং দামি প্ল্যাটিনামও কম লাগে।

সমাজবিজ্ঞান ও মানববিদ্যায় সেরা হয়েছেন সুইডেনের চালমার্স প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জেসিকা জুয়েল। তিনি কম কার্বনের প্রযুক্তি কীভাবে ছড়িয়ে পড়ে, তা বোঝার একটি কাঠামো তৈরি করেছেন।

শিল্প ও বিজ্ঞান বিভাগে জিতেছেন পর্তুগালের ইসিদোরা কোরেয়া। তাঁর প্রকল্পে ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করে পুরোনো ব্যাটারি থেকে লিথিয়াম পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা দেখানো হয়েছে। নারী প্রভাব পুরস্কার পেয়েছেন কানাডার ম্যাকমাস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের মানালি মুখার্জি। তিনি দীর্ঘমেয়াদি কোভিডের জৈবিক প্রমাণ নিয়ে কাজ করছেন।

এনগেজ, এমার্জিং ট্যালেন্টস ও সায়েন্স স্টার্ট-আপস বিভাগের সেরা অর্জন ৬ নভেম্বর ঘোষণার কথা ছিল। বিজয়ীরা ৯ নভেম্বর, সম্মেলনের শেষ দিনে, সরাসরি মঞ্চে নিজেদের কাজ উপস্থাপন করবেন। অতীতে এই মঞ্চে বক্তব্য রেখেছেন ২১ জন নোবেল বিজয়ী। এই আয়োজনে বোঝা যায়, বিজ্ঞান কীভাবে সমাজের বড় সমস্যার সমাধান খুঁজছে।
Follow For More