বিদেশে কাজ করে আয় করা অনেক বাংলাদেশির কাছে পরিবারের জন্য টাকা পাঠানোই প্রধান লক্ষ্য। তবে এখন অনেক প্রবাসী শুধু সঞ্চয় বা রেমিট্যান্স পাঠানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সেই অর্থ, বিদেশের অভিজ্ঞতা এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগকে বাংলাদেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগের কাজে ব্যবহার করছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে দেশে ৩৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। তবে টাকা দেশে পাঠানো আর সফলভাবে বিনিয়োগ করা এক বিষয় নয়। প্রবাসী বিনিয়োগে অর্থের পাশাপাশি বিদেশে অর্জিত দক্ষতা, প্রযুক্তি, বাজার সম্পর্কে ধারণা এবং আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক কাজে লাগানো যেতে পারে।
প্রবাসীরা কোথায় বিনিয়োগ করতে পারেন?
বাংলাদেশে প্রবাসীদের জন্য বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, রিয়েল এস্টেট ও নির্মাণসেবা, ই-কমার্স, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, উৎপাদন, লজিস্টিকস, রপ্তানিমুখী ব্যবসা এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেবা—এসব খাত বিবেচনা করা যেতে পারে।
তবে কোনো খাত জনপ্রিয় বলেই সেখানে বিনিয়োগ করা উচিত নয়। প্রথমে দেখতে হবে স্থানীয় বাজারে সত্যিই চাহিদা আছে কি না, প্রতিযোগিতা কেমন, পরিচালন ব্যয় কত এবং সম্ভাব্য মুনাফা কতটা। বিদেশে অর্জিত অভিজ্ঞতা এখানেই বড় সুবিধা দিতে পারে। যেমন, একজন প্রবাসী উদ্যোক্তা বিদেশে দেখা উন্নত মান নিয়ন্ত্রণ, প্রযুক্তি বা ব্যবসায়িক ব্যবস্থাপনার পদ্ধতি বাংলাদেশের স্থানীয় বাজারের উপযোগী করে ব্যবহার করতে পারেন।
বড় বিনিয়োগের আগে ছোট করে পরীক্ষা করুন
দেশে ফিরে পুরো সঞ্চয় একটি ব্যবসায় বিনিয়োগ করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বরং ছোট পরিসরে একটি পাইলট প্রকল্প শুরু করে গ্রাহকের আগ্রহ, বিক্রয়, খরচ এবং নগদ প্রবাহ যাচাই করা ভালো। ব্যবসার মডেল কার্যকর প্রমাণিত হলে ধীরে ধীরে বিনিয়োগ বাড়ানো যেতে পারে।
ফেরত আসা প্রবাসী কর্মীদের ব্যবসা শুরু করতে সহায়তার উদ্যোগও দেখা যাচ্ছে। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে এসএমই ফাউন্ডেশন ও কর্মসংস্থান ব্যাংক ফেরত আসা অভিবাসী কর্মীদের ব্যবসায় উদ্যোগে সহায়তার জন্য ৫ কোটি টাকার অর্থায়ন উদ্যোগ চালু করেছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এতে রেয়াতি ও জামানতবিহীন অর্থায়নের সুযোগও রয়েছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—প্রবাসী বিনিয়োগে শুধু টাকা নয়, বিদেশে অর্জিত অভিজ্ঞতাকেও মূলধন হিসেবে বিবেচনা করা।
টিপস
আপনার পুরো সঞ্চয় একবারে বিনিয়োগ করবেন না। আগে ছোট পরিসরে ব্যবসার ধারণা পরীক্ষা করুন, আয়-ব্যয়ের হিসাব রাখুন এবং বাজারে মডেলটি কাজ করছে কি না যাচাই করার পর বিনিয়োগ বাড়ান।
FAQs
প্রশ্ন ১: প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য কোন খাতে বিনিয়োগ ভালো?
উত্তর: সবার জন্য একই খাত সেরা নয়। কৃষি, উৎপাদন, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং রপ্তানিমুখী ব্যবসায় সুযোগ থাকতে পারে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে মূলধন, দক্ষতা ও বাজারের চাহিদা বিবেচনা করা উচিত।
প্রশ্ন ২: প্রবাসীদের কি পুরো সঞ্চয় বাংলাদেশে বিনিয়োগ করা উচিত?
উত্তর: না। পুরো সঞ্চয় একটি ব্যবসায় বিনিয়োগ না করে জরুরি তহবিল রাখা এবং বিভিন্ন খাতে সম্পদ ছড়িয়ে দেওয়া তুলনামূলকভাবে নিরাপদ পদ্ধতি হতে পারে।
প্রশ্ন ৩: বিদেশ থেকে ফিরে ব্যবসা শুরু করতে কি অর্থায়ন পাওয়া যায়?
উত্তর: কিছু সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগে ফেরত আসা অভিবাসী কর্মীদের ব্যবসায় অর্থায়নের সুযোগ রয়েছে। তবে যোগ্যতা, শর্ত ও অর্থায়নের ধরন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে যাচাই করা উচিত।
প্রশ্ন ৪: প্রবাসী বিনিয়োগের বড় ঝুঁকি কী?
উত্তর: অপর্যাপ্ত বাজার গবেষণা, দুর্বল ব্যবস্থাপনা, আর্থিক নিয়ন্ত্রণের অভাব এবং অনানুষ্ঠানিকভাবে অন্যের ওপর ব্যবসার দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
প্রশ্ন ৫: বিদেশের অভিজ্ঞতা কি বাংলাদেশে ব্যবসায় কাজে লাগানো যায়?
উত্তর: অবশ্যই। বিদেশের অভিজ্ঞতা থেকে প্রযুক্তি, মান নিয়ন্ত্রণ, ব্যবস্থাপনা, গ্রাহকসেবা এবং আন্তর্জাতিক বাজার সম্পর্কে অর্জিত জ্ঞান স্থানীয় ব্যবসায় কাজে লাগানো সম্ভব।