মাত্র ১৭ বছর বয়সে দাসিয়া টেলর এমন একটি উদ্ভাবন করেন, যা ভবিষ্যতে অস্ত্রোপচারের ক্ষত সংক্রমণ দ্রুত শনাক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি এমন একটি রং পরিবর্তনকারী স্মার্ট সেলাই সুতা তৈরি করেন, যা ক্ষতস্থানে সংক্রমণ শুরু হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে রং পরিবর্তন করে সতর্ক সংকেত দেয়। বিজ্ঞান মেলার একটি স্কুল প্রকল্প থেকে শুরু হওয়া এই গবেষণা পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রশংসা অর্জন করে।
দাসিয়ার গবেষণার মূল ভিত্তি ছিল অম্লতা ও ক্ষারত্বের মাত্রার পরিবর্তন। সাধারণত সুস্থ মানুষের ত্বকের অম্লতা ও ক্ষারত্বের মাত্রা প্রায় ৫, যা অম্লীয় প্রকৃতির। কিন্তু ক্ষতস্থানে সংক্রমণ শুরু হলে ব্যাকটেরিয়ার কারণে এই মাত্রা বেড়ে প্রায় ৯-এ পৌঁছে যায়, অর্থাৎ ক্ষারীয় হয়ে যায়। এই পরিবর্তনকে কাজে লাগিয়ে তিনি এমন একটি সেলাই সুতা তৈরির পরিকল্পনা করেন, যা সংক্রমণ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দৃশ্যমানভাবে রং বদলাবে। এতে চিকিৎসক বা রোগী কোনো বিশেষ যন্ত্র ছাড়াই সংক্রমণের প্রাথমিক লক্ষণ শনাক্ত করতে পারবেন।
গবেষণার সময় দাসিয়া বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান পরীক্ষা করে দেখেন এবং শেষ পর্যন্ত বিটের রসকে প্রাকৃতিক নির্দেশক হিসেবে নির্বাচন করেন। প্রায় তিন ডজন বিট থেকে রস সংগ্রহ করে তিনি বিভিন্ন ধরনের সুতায় পরীক্ষা চালান। একাধিক পরীক্ষার পর তুলা ও পলিয়েস্টারের মিশ্রণে তৈরি সুতা সবচেয়ে কার্যকর প্রমাণিত হয়। সংক্রমণের মতো ক্ষারীয় পরিবেশে এই সুতা মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যে উজ্জ্বল লাল থেকে গাঢ় বেগুনি রঙে পরিবর্তিত হয়, যা সহজেই খালি চোখে দেখা যায়।
বর্তমানে কিছু উন্নত স্মার্ট সেলাই প্রযুক্তি থাকলেও সেগুলোতে সংবেদক, ইলেকট্রনিক উপাদান বা স্মার্টফোনের সংযোগ প্রয়োজন হয় এবং এগুলোর উৎপাদন খরচও তুলনামূলক বেশি। দাসিয়া টেলরের উদ্ভাবনের বিশেষত্ব হলো এটি কম খরচে তৈরি করা সম্ভব, সহজে ব্যবহারযোগ্য এবং কোনো অতিরিক্ত প্রযুক্তি ছাড়াই সংক্রমণের প্রাথমিক ইঙ্গিত দিতে সক্ষম। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে, যেখানে উন্নত চিকিৎসা প্রযুক্তি সবসময় সহজলভ্য নয়, এই ধরনের উদ্ভাবন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এই গবেষণার স্বীকৃতি হিসেবে দাসিয়া ২০২১ সালে একটি মর্যাদাপূর্ণ বিজ্ঞান প্রতিযোগিতার শীর্ষ ৪০ জন চূড়ান্ত প্রতিযোগীর একজন হিসেবে নির্বাচিত হন। পরে তিনি নিজের আবিষ্কারের জন্য পেটেন্টের আবেদন করেন এবং গবেষণাকে আরও এগিয়ে নিতে আইওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের সঙ্গে কাজ শুরু করেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই প্রযুক্তি বাস্তবে ব্যবহারের আগে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন হলেও ভবিষ্যতে অস্ত্রোপচারের পর সংক্রমণ শনাক্তকরণে এটি একটি কার্যকর সমাধান হয়ে উঠতে পারে।
FAQs