চমেক হাসপাতাল থেকে চিপস দেওয়ার কথা বলে শিশু অপহরণ: ১৫ ঘণ্টা পর দম্পতি গ্রেপ্তার, শিশু উদ্ধার

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল থেকে ১৫ মাস বয়সী এক শিশুকে অপহরণের চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। তবে অপহরণের মাত্র ১৫ ঘণ্টার মধ্যেই প্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশি অভিযানে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে শিশুটিকে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ি ও স্থানীয় থানা পুলিশ। শনিবার (১১ জুলাই ২০২৬) সকালে নগরীর চান্দগাঁও থানার এক কিলোমিটার এলাকা থেকে অপহৃত শিশুটিকে উদ্ধার এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—নাছিমা বেগম (২৫) ও তাঁর স্বামী বোরহান উদ্দিন (৩০)।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, অপহৃত শিশু নাজেহাদের (১৫ মাস) গ্রামের বাড়ি কক্সবাজারের চকরিয়ার ফাঁসিয়াখালীতে। তার বাবা সোহেল রানা। গত বৃহস্পতিবার চমেক হাসপাতালের ষষ্ঠ তলার এনআইসিইউ-তে (NICU) ভর্তি করা হয় সোহেল রানার স্ত্রীর ছোট বোনের এক নবজাতককে। শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেলে শিশু নাজেহাদকে নিয়ে হাসপাতালের পঞ্চম তলার বারান্দায় বিশ্রাম নিচ্ছিলেন তার নানি (এক বৃদ্ধা)। এমন সময় অভিযুক্ত নাছিমা বেগম এসে নিজেকে ওই শিশুর মায়ের বান্ধবী পরিচয় দিয়ে বৃদ্ধার সাথে ভাব জমান। একপর্যায়ে শিশুটি কান্না শুরু করলে চিপস কিনে দেওয়ার কথা বলে তাকে কোলে নিয়ে হাসপাতালের নিচে যান নাছিমা এবং এরপর আর ফিরে আসেননি।

দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজি করে শিশুটিকে না পেয়ে তার বাবা সোহেল রানা পুলিশে অভিযোগ ও পরবর্তীতে মামলা দায়ের করেন। চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) নুরুল আলম আশেক জানান, চুরির ঘটনা নিশ্চিত হওয়ার পর তারা তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করে নাছিমা বেগমের অবস্থান শনাক্ত করেন। পরে চান্দগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত দম্পতিকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার এবং শিশু নাজেহাদকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

## FAQs

Q1: চমেক হাসপাতাল থেকে অপহৃত হওয়া শিশুটির পরিচয় কী?

Ans: অপহৃত শিশুটির নাম নাজেহাদ, তার বয়স ১৫ মাস। সে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী এলাকার সোহেল রানার সন্তান।

Q2: অপহরণকারী নারী কীভাবে শিশুটিকে হাসপাতাল থেকে সরিয়ে নিয়েছিল?

Ans: অপহরণকারী নাছিমা বেগম শিশুটির নানির সাথে ‘মায়ের বান্ধবী’ পরিচয় দিয়ে ভাব জমায়। পরে শিশুটি কাঁদলে চিপস কিনে দেওয়ার বাহানায় তাকে কোলে নিয়ে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যায়।

Q3: পুলিশ কতক্ষণ পর এবং কোথা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করেছে?

Ans: ঘটনার প্রায় ১৫ ঘণ্টা পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নগরীর চান্দগাঁও থানার এক কিলোমিটার এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার এবং অপহরণকারী দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়।