প্রবাসী আয় বাড়লেও পাঁচ মাস ধরে ৩০০ কোটি ডলারের নিচে

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসী আয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও মাসিক রেমিট্যান্স প্রবাহে নতুন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ২০২৬ সালের অক্টোবরে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন প্রায় ২৮৭ কোটি মার্কিন ডলার। আগের বছরের একই মাসের তুলনায় এই আয় ১২.১ শতাংশ বেশি। তবে টানা পাঁচ মাস ধরে মাসিক প্রবাসী আয় ৩০০ কোটি ডলারের সীমা অতিক্রম করতে পারেনি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে প্রবাসী আয় ছিল প্রায় ২৭৬ কোটি ডলার। অক্টোবরের আয় তার তুলনায়ও বেড়েছে। অর্থাৎ মাসিক হিসাবে কিছুটা উন্নতি হলেও প্রত্যাশিত ৩০০ কোটি ডলারের সীমায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
কেন কমছে প্রবাসী আয়ের গতি?
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত প্রবাসীদের আয়, কর্মসংস্থান ও দেশে অর্থ পাঠানোর সক্ষমতাকে প্রভাবিত করছে। বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক প্রবাসী এই অঞ্চলে কাজ করেন। ফলে সেখানে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হলে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহেও তার প্রভাব পড়তে পারে।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও আমদানি ব্যয়ের চাপ বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা বাড়াচ্ছে। তেল ও গ্যাস আমদানির জন্য বিপুল পরিমাণ ডলার প্রয়োজন হওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে চাপ তৈরি হচ্ছে।
চার মাসে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১৩ শতাংশ
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশ প্রায় ১ হাজার ১৪৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার প্রবাসী আয় পেয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল প্রায় ১ হাজার ১৫ কোটি ডলার। অর্থাৎ চার মাসে প্রবাসী আয় বেড়েছে প্রায় ১৩ শতাংশ।
অর্থনীতিবিদদের মতে, শুধু প্রবাসী আয়ের ওপর নির্ভর করে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের চাপ দীর্ঘমেয়াদে সামাল দেওয়া কঠিন। রপ্তানি আয় বাড়ানো, জ্বালানি আমদানির ব্যয় দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা এবং বৈধ পথে দেশে অর্থ পাঠানো আরও সহজ ও সাশ্রয়ী করা প্রয়োজন।
প্রবাসী আয় বাড়ার ইতিবাচক প্রবণতা বজায় থাকলেও মাসিক প্রবাহের গতি ও ডলারের চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
Follow for more