বাংলাদেশ সরকারের উন্নয়ন ব্যয় চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) মাত্র ৩.৮৯ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়েছে। ২৬ অক্টোবর প্রকাশিত দ্য ডেইলি স্টার-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৭ বছরের মধ্যে প্রথম প্রান্তিকে এটি সর্বনিম্ন বাস্তবায়নের হার।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) তথ্য অনুযায়ী, এই তিন মাসে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ মোট ১২ হাজার ১৭ কোটি টাকা ব্যয় করেছে। অথচ ২০২৬–২৭ অর্থবছরে ১ হাজার ১৭২টি উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য প্রায় ৩ লাখ ৮ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
আগের অর্থবছরের একই সময়ে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল ৫.০৯ শতাংশ। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে এই হার ছিল ৪.৭৫ শতাংশ এবং ২০২৩–২৪ অর্থবছরে ছিল ৭.৫০ শতাংশ। ফলে চলতি অর্থবছরের শুরুতে উন্নয়ন ব্যয়ের গতি আরও কমেছে।
বিশেষ করে স্বাস্থ্য খাতে ব্যয়ের হার উদ্বেগজনক। প্রথম তিন মাসে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ তার বরাদ্দের মাত্র ১.৭৮ শতাংশ ব্যয় করেছে। অন্যদিকে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের বরাদ্দের ১৭.৩৮ শতাংশ ব্যয় করে বড় বরাদ্দপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে তুলনামূলকভাবে এগিয়ে রয়েছে।
এডিপি বাস্তবায়নের ধীরগতি দেশের অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের সঙ্গে নির্মাণ, পরিবহন, সিমেন্ট ও সরবরাহব্যবস্থার মতো বিভিন্ন শিল্পের কার্যক্রম যুক্ত। প্রকল্পের কাজ পিছিয়ে গেলে এসব খাতে ব্যবসায়িক কার্যক্রম, কর্মসংস্থান এবং বিনিয়োগের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে সময়মতো প্রকল্প শেষ না হলে ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং প্রত্যাশিত সুফল পেতে দেরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে।