একসময় শেয়ারবাজারের কেনাবেচা মানেই ছিল ট্রেডিং ফ্লোরে মানুষের হাঁকডাক। এখন সেই কাজের বড় অংশ করছে কম্পিউটার প্রোগ্রাম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, যা বিনিয়োগের ধরনই পাল্টে দিচ্ছে।
অ্যালগরিদমিক ট্রেডিং হলো এমন ব্যবস্থা, যেখানে প্রোগ্রাম সময়, দাম ও লেনদেনের পরিমাণের মতো নির্ধারিত নিয়ম মেনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অর্ডার দেয়। এআই যুক্ত হওয়ায় এই ব্যবস্থা এখন বিপুল তথ্য বিশ্লেষণ করে নিজেই সংকেত খুঁজে নিতে পারে। বিভিন্ন গবেষণার হিসাবে, বড় শেয়ারবাজারের লেনদেনের প্রায় ৬০ থেকে ৭৫ শতাংশ এখন স্বয়ংক্রিয়। তবে পরিমাপ পদ্ধতিভেদে এই হিসাব ভিন্ন হয়, তাই এর চেয়ে অনেক বেশি দাবির ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা ভালো। ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের হিসাবে, যুক্তরাজ্যে স্বয়ংক্রিয় লেনদেন ২০২৬ সালে দৈনিক লেনদেনের অর্ধেকের বেশি, যা ২০২০ সালে ছিল প্রায় ৩৫ শতাংশ।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বলছে, স্বয়ংক্রিয় অ্যালগরিদম বাজারকে দ্রুত চলতে এবং বড় লেনদেন সহজে সামলাতে সাহায্য করেছে। এআই-চালিত বাজারে দামও আরও দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখায়। যেমন ফেডারেল রিজার্ভের সভার দীর্ঘ কার্যবিবরণী থেকে কোনো মানুষ ট্রেডারের আগেই এআই লেনদেনের সংকেত পেতে পারে।
তবে ঝুঁকিও কম নয়। ২০১০ সালের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রে শেয়ারের দাম হঠাৎ ধসে গিয়ে কয়েক মিনিটের মধ্যেই আবার ফিরে এসেছিল। অ্যালগরিদমভিত্তিক লেনদেনকে এমন “ফ্ল্যাশ ক্র্যাশ”-এর সঙ্গে যুক্ত করা হয়। আইএমএফ সতর্ক করেছে, অনেক এআই মডেল একই তথ্যে একই সঙ্গে সাড়া দিলে চাপের সময় বাজারের অস্থিরতা বাড়তে পারে। সংস্থাটি বাজার নিয়ন্ত্রকদের সার্কিট ব্রেকারের মতো ব্যবস্থা পর্যালোচনার পরামর্শও দিয়েছে।
সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছেও এখন পৌঁছেছে রোবো-অ্যাডভাইজারের মতো স্বয়ংক্রিয় পরামর্শ সেবা। যুক্তরাষ্ট্রে এসব সেবা সাধারণত নিবন্ধিত বিনিয়োগ উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করে, তাই তাদের বিনিয়োগকারীর স্বার্থ রক্ষার বাধ্যবাধকতা মানতে হয়। তবুও এআই মুনাফার নিশ্চয়তা দেয় না। “নিশ্চিত লাভ” বলে প্রচারিত কোনো বট বা অ্যাপ এড়িয়ে নিজের ঝুঁকি নেওয়ার সামর্থ্য বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
আইএমএফের জরিপে অংশ নেওয়া বাজার অংশগ্রহণকারীরা আশা করেন, বড় অঙ্কের বিনিয়োগ সিদ্ধান্তে মানুষের তদারকি থাকবেই। অর্থাৎ এআই শেয়ারবাজারকে দ্রুত ও তথ্যনির্ভর করছে, কিন্তু সতর্ক নিয়ন্ত্রণ ও বিনিয়োগকারীর বিচক্ষণতার গুরুত্ব কমছে না।
Follow For More