ভূতের গল্প শুনে মানুষ ভয় পায়, তবু আবার শুনতে চায়। এই আগ্রহকেই কাজে লাগিয়েছে হারপিক বাংলাদেশ। ‘স্কন্ধকাটা’ নামের বিজ্ঞাপনে ভয়, রহস্য আর অপ্রত্যাশিত মোড় মিলিয়ে তারা তুলে ধরেছে শৌচাগার পরিচ্ছন্ন রাখার গুরুত্ব।
স্কন্ধকাটা বাংলার লোকগল্পের পরিচিত ভূত। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, শিরশ্ছেদে মারা যাওয়া মানুষের আত্মা নিজের কাটা মাথা খুঁজে ফেরে। গ্রামবাংলার গল্পে এই চরিত্রের নাম শোনেননি, এমন মানুষ কমই আছে। পরিচিত এই ভয়কে কেন্দ্রে রাখায় দর্শক শুরু থেকেই গল্পের সঙ্গে নিজেকে মিলিয়ে নিতে পারেন।
প্রচারিত দৃশ্যগুলোয় দেখা যায়, রাতের অন্ধকারে নাক চেপে দাঁড়িয়ে আছে দুই কিশোর, আর টিনের দেয়ালে ফুটে উঠেছে এক কালো ছায়ামূর্তি। টেজফিডের বর্ণনা অনুযায়ী, ভয় ও রহস্যে ভরা গল্পটির শেষে আছে এক অপ্রত্যাশিত মোড়, যার মাধ্যমে শৌচাগারের পরিচ্ছন্নতা এবং হারপিকের ভূমিকার কথা বলা হয়েছে।
বিজ্ঞাপনটি কেন নজর কাড়ছে, তার কয়েকটি কারণ আছে। প্রথমত, শৌচাগার নিয়ে কথা বলা অনেকের কাছেই অস্বস্তিকর। ভয়ের গল্পের মোড়কে বিষয়টি এলে সেই অস্বস্তি কমে যায়। দ্বিতীয়ত, উপদেশ না দিয়ে গল্প বলার ধরন দর্শককে শেষ পর্যন্ত দেখতে আগ্রহী করে। তৃতীয়ত, আলো-আঁধারির পরিবেশ ও নির্মাণশৈলী বিজ্ঞাপনটিকে ছোট একটি সিনেমার মতো অনুভূতি দেয়।
বিজ্ঞাপনটি থেকে যে বার্তা পাওয়া যায়, তা সহজ: আসল আতঙ্ক ভূত নয়, অপরিচ্ছন্ন শৌচাগার। নোংরা শৌচাগারে দুর্গন্ধ ও রোগজীবাণু ছড়ায়, যা পরিবারের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করে। তাই নিয়মিত পরিষ্কার রাখা কোনো বাড়তি কাজ নয়, সুস্থ থাকার অংশ।
হারপিক বাংলাদেশ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে শৌচাগার পরিচর্যা খাতে শীর্ষ অবস্থানে আছে বলে দাবি করে। ২০২৪ সালের বিশ্ব শৌচাগার দিবসে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তারা স্বাস্থ্যবিধিকে বিলাসিতা নয়, মৌলিক অধিকার মনে করে। ভয়ের গল্পের মাধ্যমে বার্তা পৌঁছে দেওয়ার এই উদ্যোগ সেই সচেতনতার ধারাতেই দেখা যায়।
এ ধরনের গল্পনির্ভর বিজ্ঞাপনের সুবিধা হলো, দর্শক বিজ্ঞাপন দেখছেন বুঝতে পারার আগেই গল্পে ডুবে যান। শেষে যখন আসল বার্তা সামনে আসে, তখন তা সহজে মনে থেকে যায়। পণ্যের গুণ নিয়ে লম্বা বক্তৃতার চেয়ে এমন অভিজ্ঞতা অনেক সময় বেশি কার্যকর হয়। ফলে বিষয়টি নিয়ে সচেতনতা ছড়াতে এই কৌশল বিশেষ করে সামাজিক মাধ্যমে নতুন দর্শকের কাছে পৌঁছাতে সাহায্য করতে পারে।
Follow For More