কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ছে ব্যাংকিং খাতে, বদলে যাচ্ছে গ্রাহকসেবা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এখন দেশের ব্যাংকিং খাতেও গ্রাহকসেবার ধরন বদলে দিচ্ছে। সামান্য তথ্যের জন্য একসময় শাখায় গিয়ে অপেক্ষা করতে হতো, এখন অ্যাপ বা ওয়েবসাইটেই মিলছে তাৎক্ষণিক সাড়া।

ইস্টার্ন ব্যাংক দেশে প্রথম এআইভিত্তিক ব্যাংকিং চ্যাটবট চালু করেছিল। পরে ব্র্যাক ব্যাংক, ডাচ-বাংলা ব্যাংক ও বিকাশের মতো প্রতিষ্ঠানও অ্যাপ ও ওয়েবসাইটে চ্যাটবট যুক্ত করেছে। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ তাদের সেলফিন অ্যাপে চালু করেছে এআইচালিত ভয়েস সহকারী “সেলফিন ইকো”, যাকে দেশের প্রথম এ ধরনের সহকারী বলা হচ্ছে।

এসব চ্যাটবট নিয়মিত প্রশ্নের উত্তর দেয়, ফলে মানব কর্মীদের ওপর চাপ কমে। শাখা থেকে দূরে থাকা গ্রাহক, বিশেষ করে গ্রামের মানুষের জন্য সেবা পাওয়ার সুযোগও বাড়ে। এআই ও মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে ব্যাংক গ্রাহকের আচরণ বিশ্লেষণ করতে এবং প্রতারণার সম্ভাব্য ধরন শনাক্ত করতেও পারছে।

তবে পথটি পুরোপুরি মসৃণ নয়। বিআইবিএমের এক গবেষণা অনুযায়ী, দেশের ৬৮ শতাংশ ব্যাংকের এআই ব্যবহারে কোনো নীতিমালা নেই। এই ঘাটতি পূরণে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকিং খাতের জন্য সমন্বিত এআই নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে এবং সাত সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল গঠন করেছে। প্রস্তাবিত নীতিমালায় তথ্য নিরাপত্তা, গ্রাহকের অধিকার ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

গ্রাহকের আস্থার প্রশ্নও রয়েছে। বাংলাদেশের ব্যাংকে চ্যাটবট ব্যবহারে আগ্রহ নিয়ে একটি গবেষণায় দেখা গেছে, গোপনীয়তা নিয়ে ঝুঁকির ধারণা গ্রাহকের ব্যবহারের ইচ্ছাকে প্রভাবিত করে।

গ্রাহক হিসেবে সতর্কতা জরুরি। চ্যাটবট বা কোনো স্বয়ংক্রিয় সহকারীর কাছে পিন, ওটিপি বা পাসওয়ার্ড দেওয়া উচিত নয়। জটিল সমস্যায় ব্যাংকের অফিসিয়াল চ্যানেল বা শাখায় যোগাযোগ করাই নিরাপদ।

সব মিলিয়ে এআই ব্যাংকিং সেবাকে দ্রুত ও সহজ করছে। এর পূর্ণ সুফল পেতে প্রযুক্তির পাশাপাশি স্পষ্ট নীতিমালা ও গ্রাহকের তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করাও সমান জরুরি।
Follow For More