২ লাখ ৪৫ হাজার তরুণের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি, তৈরি হবে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ

বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে বড় পরিসরে দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি চালু করেছে কেয়ার বাংলাদেশ ও তাদের সহযোগী সংস্থাগুলো। এই উদ্যোগের আওতায় ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী ২ লাখ ৪৫ হাজার তরুণ-তরুণীকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ করে যারা বর্তমানে শিক্ষা, চাকরি কিংবা কোনো প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত নন, তাঁদের দক্ষ করে গড়ে তোলাই এই কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য।

গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ রাজধানীর সোবহানবাগে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্টে আয়োজিত ‘ইয়ুথ অ্যান্ড এমপ্লয়ার্স মিট’ অনুষ্ঠানে কর্মসূচিটির উদ্বোধন করা হয়। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এর উদ্বোধন করেন। এটি ‘ইকোনমিক অ্যাকসিলারেশন অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ফর নিট’ বা ইআর্ন প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে। প্রকল্পটি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর বাস্তবায়ন করছে এবং এতে বিশ্বব্যাংকের সহায়তা রয়েছে।

এই কর্মসূচিতে তিন ধরনের দক্ষতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। এগুলো হলো কারিগরি দক্ষতা, উদ্যোক্তা হওয়ার দক্ষতা এবং সামাজিক ও আবেগিক দক্ষতা। এর মাধ্যমে তরুণ-তরুণীরা চাকরির উপযোগী দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি নিজস্ব উদ্যোগ বা ব্যবসা শুরু করার প্রস্তুতিও নিতে পারবেন।

কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নিয়োগদাতাদের সঙ্গে তরুণদের সরাসরি যোগাযোগ তৈরি করা। আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও যোগ্যতা সম্পর্কে তাঁদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। অন্যদিকে তরুণরা চাকরি খোঁজা এবং কর্মজীবনে প্রবেশের ক্ষেত্রে নিজেদের চ্যালেঞ্জের কথা জানান। এতে প্রশিক্ষণকে বাস্তব কর্মবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার সুযোগ তৈরি হবে।

কেয়ার বাংলাদেশ তাদের সহযোগী সংস্থাগুলোর মাধ্যমে রাজশাহী, খুলনা ও ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন এলাকা এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করবে।

তবে এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির নির্দিষ্ট আবেদনপদ্ধতি, সময়সূচি ও নির্বাচনের বিস্তারিত তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি থেকে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। উদ্যোগটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।