NASA Swift Observatory: ২২ বছরের অভিযানের সমাপ্তি

দীর্ঘ প্রায় ২২ বছরের মহাকাশ অভিযান শেষে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে NASA Swift Observatory। ২০০৪ সালে উৎক্ষেপণ করা এই মহাকাশ টেলিস্কোপটি আগামী ৪ নভেম্বর পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করতে পারে। NASA-র ২ নভেম্বরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এর অধিকাংশ অংশ বায়ুমণ্ডলে পুড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে; তবে কিছু ধ্বংসাবশেষ পৃথিবী পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

NASA ও U.S. Space Force-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৪ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় রাত ৩টা ৩০ মিনিটে মহাকাশযানটি বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করতে পারে। বাংলাদেশ সময় তখন দুপুর ২টা ৩০ মিনিট। তবে পূর্বাভাসে প্রায় ১১ ঘণ্টার অনিশ্চয়তা রয়েছে। ফলে প্রকৃত সময় পরিবর্তিত হতে পারে।

২০০৪ সালের ২০ নভেম্বর উৎক্ষেপণের সময় এর প্রাথমিক মিশন নির্ধারিত ছিল মাত্র দুই বছর। কিন্তু প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি সময় ধরে এটি মহাবিশ্ব পর্যবেক্ষণ করেছে। এর অফিশিয়াল মিশন ওয়েবসাইটে গবেষণা ও পর্যবেক্ষণের বিস্তারিত তথ্য রয়েছে।

কেন শেষ হচ্ছে NASA Swift Observatory-এর অভিযান?

পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে বায়ুমণ্ডলীয় বাধার কারণে মহাকাশযানটির উচ্চতা ধীরে ধীরে কমে যায়। সাম্প্রতিক সৌর কার্যকলাপে পৃথিবীর ওপরের বায়ুমণ্ডল প্রসারিত হওয়ায় এই বাধা আরও বেড়েছে। ফলে মহাকাশযানটির কক্ষপথ দ্রুত নিচে নেমে আসে।

NASA-র মিশন সমাপ্তির ঘোষণায় বলা হয়, ২০ অক্টোবর মহাকাশযানটি পৃথিবীর পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২৭৫ কিলোমিটার উচ্চতায় পৌঁছায়। এ অবস্থায় বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব না হওয়ায় এর কার্যক্রম বন্ধ করা হয়।

মিশনের মেয়াদ বাড়াতে NASA, Katalyst Space Technologies-এর সঙ্গে একটি উদ্ধার পরিকল্পনা করে। LINK নামের একটি রোবোটিক মহাকাশযানের মাধ্যমে Swift-কে ধরে উঁচু কক্ষপথে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে উদ্ধার অভিযান সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে Associated Press-এর প্রতিবেদন বিস্তারিত জানিয়েছে।

২২ বছরের কর্মজীবনে মহাকাশযানটি দুই হাজারের বেশি Gamma-ray Burst এবং ১ হাজার ৪০০টির বেশি সুপারনোভা পর্যবেক্ষণ করেছে। ব্ল্যাক হোল, ধূমকেতু ও গ্রহাণু নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করেছে। তিনটি টেলিস্কোপের মাধ্যমে এটি এক্স-রে, অতিবেগুনি ও দৃশ্যমান আলো পর্যবেক্ষণ করতে পারত।

প্রায় ৩ হাজার ২০০ পাউন্ড ওজনের NASA Swift Observatory-এর অধিকাংশ অংশ বায়ুমণ্ডলে পুড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে টাংস্টেনের মতো ঘন ধাতু এবং আয়নার কিছু অংশ টিকে থাকতে পারে। NASA জানিয়েছে, পৃথিবীর মানুষের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা অত্যন্ত কম। এর সংগৃহীত বৈজ্ঞানিক তথ্য ভবিষ্যতেও মহাকাশ গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Follow For More