মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে উদ্বেগ এত দিন মূলত এসব ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা মানুষের শরীরে প্রবেশ করছে কি না, তা ঘিরেই ছিল। সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, বিষয়টি আরও জটিল। মাইক্রোপ্লাস্টিকের পৃষ্ঠে বিভিন্ন অণুজীব, ব্যাকটেরিয়া এবং সম্ভাব্য রোগজীবাণু জমে বায়োফিল্ম তৈরি করতে পারে। এই জীবাণুসমৃদ্ধ কৃত্রিম পরিবেশকেই বলা হয় ‘Plastisphere’। ২০২৬ সালের একটি Nature Reviews Microbiology পর্যালোচনায় Plastisphere-কে মানব রোগজীবাণু ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশ হিসেবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
মাইক্রোপ্লাস্টিক পানিতে ভাসতে বা স্রোতের সঙ্গে দূরবর্তী এলাকায় যেতে পারে। ফলে এর পৃষ্ঠে থাকা অণুজীবও এক পরিবেশ থেকে অন্য পরিবেশে স্থানান্তরিত হওয়ার সুযোগ পায়। গবেষণায় Vibrio, E. coliসহ বিভিন্ন খাদ্যবাহিত জীবাণুর মাইক্রোপ্লাস্টিকের বায়োফিল্মে উপস্থিতির কথা উঠে এসেছে।
গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো হলো—
- সামুদ্রিক মাছ, শামুক ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর মাধ্যমে মাইক্রোপ্লাস্টিক খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশ করতে পারে।
- কৃষিজমি, সেচের পানি ও জৈবসারেও মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি খাদ্যদূষণের নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
- খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও উৎপাদন পরিবেশেও মাইক্রোপ্লাস্টিকের সঙ্গে ব্যাকটেরিয়ার মিথস্ক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
- ২০২৬ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি Listeria monocytogenes ও E. coli-এর মতো খাদ্যবাহিত ব্যাকটেরিয়ার জীবাণুনাশক ব্যবস্থার কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করতে পারে।
তবে বিজ্ঞানীরা এখনো বলছেন, মাইক্রোপ্লাস্টিক সর্বত্র রোগজীবাণুর বাহক হিসেবে কাজ করে—এমন সরাসরি সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই। ২০২৬ সালের একটি পর্যালোচনাতেও মাইক্রোপ্লাস্টিককে ‘সম্ভাব্য exposure multiplier’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে এবং রোগঝুঁকি, সংক্রমণের মাত্রা ও বাস্তব খাদ্যশৃঙ্খল-প্রভাব নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।
অর্থাৎ, মাইক্রোপ্লাস্টিকের ঝুঁকি শুধু প্লাস্টিক কণা শরীরে প্রবেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর গায়ে গড়ে ওঠা জীবাণুসমাজও ভবিষ্যতের খাদ্যনিরাপত্তা গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠছে।
FAQs
১. Plastisphere কী?
মাইক্রোপ্লাস্টিকের পৃষ্ঠে অণুজীব, ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য জীবের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা বায়োফিল্ম বা জীবাণুসমৃদ্ধ পরিবেশকে Plastisphere বলা হয়।
২. মাইক্রোপ্লাস্টিক কি রোগজীবাণু বহন করতে পারে?
গবেষণায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের পৃষ্ঠে বিভিন্ন অণুজীব ও সম্ভাব্য রোগজীবাণুর উপস্থিতি পাওয়া গেছে। তবে এগুলো মানুষের মধ্যে রোগ ছড়ানোর মাত্রা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয়।
৩. খাদ্যশৃঙ্খলে মাইক্রোপ্লাস্টিক কীভাবে প্রবেশ করে?
পানি, মাটি ও সামুদ্রিক পরিবেশের মাধ্যমে মাইক্রোপ্লাস্টিক মাছ, শামুকসহ জলজ প্রাণী এবং কৃষিপণ্যে পৌঁছাতে পারে। পরে এসব খাদ্য মানুষের খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশ করে।