সাপের ভয়েই বেজি আমদানি, পরে বেজিই হয়ে উঠল বড় বিপদ!

সাপের ভয় থেকে বাঁচতে নেওয়া হয়েছিল এক ‘প্রাকৃতিক সমাধান’। কিন্তু সেই সমাধানই শেষ পর্যন্ত জাপানের একটি দ্বীপে তৈরি করে নতুন পরিবেশগত সংকট। সাপ নিয়ন্ত্রণে আনা বেজিই পরে হয়ে ওঠে স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের জন্য বড় হুমকি।

১৯৭৯ সালে জাপানের আমামি ওশিমা (Amami Ōshima) দ্বীপে প্রায় ৩০টি Small Indian Mongoose বা ছোট ভারতীয় বেজি আনা হয়। উদ্দেশ্য ছিল দ্বীপের বিষধর হাবু সাপ (Habu snake) নিয়ন্ত্রণ করা।

ধারণাটি ছিল সহজ—বেজি সাপ শিকার করবে, ফলে বিষধর সাপের সংখ্যা কমবে। কিন্তু বাস্তবে পরিকল্পনাটি তেমন কাজ করেনি।

বেজি ও হাবু সাপের সক্রিয়তার সময়ের পার্থক্যসহ বিভিন্ন কারণে বেজিরা প্রত্যাশিতভাবে সাপ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। বরং তারা দ্বীপের স্থানীয় বন্যপ্রাণী শিকার করতে শুরু করে। এর ফলে বিরল ও স্থানীয় বিভিন্ন প্রজাতি নতুন হুমকির মুখে পড়ে।

অর্থাৎ, সাপ কমানোর জন্য যে প্রাণীকে আনা হয়েছিল, সেটিই শেষ পর্যন্ত স্থানীয় পরিবেশের জন্য সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জাপান সরকার শুরু করে দীর্ঘমেয়াদি mongoose eradication programme। ফাঁদ, পর্যবেক্ষণ ও অন্যান্য নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির মাধ্যমে ধীরে ধীরে বেজির সংখ্যা কমানোর চেষ্টা চলে।

প্রায় ৪৫ বছর পর, ২০২৪ সালে জাপান ঘোষণা করে যে আমামি ওশিমা থেকে বেজি নির্মূল করা সম্ভব হয়েছে। ১৯৭৯ সালে আনা প্রায় ৩০টি বেজি থেকে তৈরি হওয়া সমস্যার সমাধান করতে লেগে গেল চার দশকেরও বেশি সময়।

ঘটনাটি শুধু একটি দ্বীপের গল্প নয়; এটি প্রকৃতিতে কোনো প্রাণীকে মানুষের সুবিধার জন্য নতুন পরিবেশে নিয়ে যাওয়ার সম্ভাব্য ঝুঁকিরও একটি বড় উদাহরণ।

সাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য বেজি আনা হয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত বেজি নিয়ন্ত্রণ করতেই জাপানকে কাটাতে হলো ৪৫ বছর।