দেশের সবচেয়ে বড় শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের সংকট এখন আর লুকিয়ে রাখার উপায় নেই। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ ২০২৬ সালের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে ১,০২৮ কোটি টাকার লোকসানে পড়েছে, যার মূল কারণ বিনিয়োগ আয়ে তীব্র পতন ও নন-পারফর্মিং বিনিয়োগের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি। এই প্রান্তিকে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত লোকসান দাঁড়িয়েছে ৬.৩৯ টাকা, যেখানে গত বছরের একই সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় ছিল ০.২৪ টাকা।
পুরো প্রথমার্ধের চিত্র আরও ভয়াবহ। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ব্যাংকটির সমন্বিত লোকসান রেকর্ড ১,৩১৬.৪৮ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যেখানে গত বছর একই সময়ে ৬৭.৪০ কোটি টাকা মুনাফা হয়েছিল। এই পতন অনেকটাই অনুমানযোগ্য ছিল, কারণ ব্যাংকের মোট ঋণের ৫১ শতাংশ খেলাপি হয়ে গেছে এবং ২০২৫ সালের শেষে খেলাপি বিনিয়োগ রেকর্ড ৯৪,৩২২ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা দেশের একটিমাত্র ব্যাংকের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আলতাফ হোসেন জানিয়েছেন, একটি বড় গ্রুপে ব্যাংকের বিশাল বিনিয়োগ এখন কোনো আয় দিচ্ছে না, অথচ আমানতকারীদের মুনাফা ঠিকই দিতে হচ্ছে।
এই লোকসানের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের লুটপাট ও অনিয়মের ইতিহাস। বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, এস আলম গ্রুপ তাদের সরাসরি বা পরোক্ষ নিয়ন্ত্রণে থাকা আটটি ব্যাংক থেকে প্রায় ১.৯০ লাখ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে, যার মধ্যে ইসলামী ব্যাংক থেকেই গেছে ১.০৫ লাখ কোটি টাকারও বেশি। এই পরিস্থিতির মধ্যেও ব্যাংকটি আশার আলো দেখছে। মাত্র দুই দিনে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা নতুন আমানত এসেছে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন বোর্ড গঠন গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারে বলে কর্মকর্তারা মনে করছেন।
FAQ