চট্টগ্রামে বন্যা পরিস্থিতি: টানা বৃষ্টিতে প্লাবিত নগরী ও উপকূল, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

গত ৪৮ ঘণ্টায় ৬৫০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত এবং পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে চট্টগ্রাম নগরীসহ জেলার একাধিক উপজেলা পানির নিচে। জলাবদ্ধতা, সড়ক যোগাযোগে বিঘ্ন, শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত এবং ভূমিধসের আশঙ্কায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন লাখো মানুষ।
টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম নগরী ও জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যা ও জলাবদ্ধতায় আক্রান্ত হয়েছে। চট্টগ্রাম আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত ৪৮ ঘণ্টায় ৬৫০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর মধ্যে একদিনেই ৪১২.৩ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টার বৃষ্টিপাত।
শুধু চট্টগ্রাম নগরী নয়, জেলার বিভিন্ন উপজেলাতেও বন্যার প্রভাব পড়েছে। সীতাকুণ্ড, মিরসরাই, বাঁশখালী, আনোয়ারা, বোয়ালখালী, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, পটিয়া, ফটিকছড়ি, হাটহাজারী, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া এবং সন্দ্বীপের বিভিন্ন নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক স্থানে বসতবাড়ি, কৃষিজমি, মাছের ঘের এবং গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদ, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, চকবাজার, পাঁচলাইশ, হালিশহর, পতেঙ্গা, কাপাসগোলা, চাঁন্দগাঁও, পশ্চিম বাকলিয়া, কালুরঘাট, অক্সিজেন, বড় দিঘীর পাড় এবং ইপিজেড এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। বিভিন্ন সড়কে যানবাহন চলাচল ধীর হয়ে পড়েছে এবং অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
বিশেষ করে সীতাকুণ্ড ও মিরসরাইয়ের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকি বেড়েছে। অন্যদিকে বাঁশখালী, আনোয়ারা ও উপকূলীয় অঞ্চলে অতিবৃষ্টি ও জোয়ারের প্রভাবে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৩৩ হাজারের বেশি মানুষ এই বন্যা ও জলাবদ্ধতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রশাসন আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন আরও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে নতুন করে জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। স্থানীয় প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার এবং প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
FAQs
Q1: চট্টগ্রামে কত মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে?
Ans: গত ৪৮ ঘণ্টায় ৬৫০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
Q2: কোন এলাকাগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত?
Ans: চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদ, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, হালিশহর, পতেঙ্গাসহ সীতাকুণ্ড, মিরসরাই, বাঁশখালী, আনোয়ারা, রাউজান, পটিয়া, হাটহাজারী, ফটিকছড়ি, লোহাগাড়া, সাতকানিয়া, চন্দনাইশ ও অন্যান্য উপজেলা।
Q3: কত মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে?
Ans: প্রাথমিক হিসাবে ৩৩ হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

Follow For More