অর্থনীতি মানে শুধু টাকা, ব্যাংক আর শেয়ারবাজার, এই ধারণা বদলে দিয়েছে ২০০৫ সালে প্রকাশিত একটি বই, ফ্রিকোনমিক্স। বইটি লিখেছেন শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদ স্টিভেন লেভিট ও সাংবাদিক স্টিফেন ডাবনার। এর পূর্ণ নাম ‘ফ্রিকোনমিক্স: এ রোগ ইকোনমিস্ট এক্সপ্লোরস দ্য হিডেন সাইড অব এভরিথিং’।
লেখকেরা বলেন, অর্থনীতি মূলত প্রণোদনার অধ্যয়ন, অর্থাৎ মানুষ কেন কোনো কাজ করে। কোন প্রণোদনা মানুষকে চালায়, তা বুঝলে অনেক অদ্ভুত আচরণের ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। মিনিয়াপোলিস ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের একটি পর্যালোচনা অনুযায়ী, বইটির তিনটি বড় শিক্ষা হলো: প্রচলিত ধারণা প্রায়ই ভুল হয়, তথ্যই ক্ষমতা, আর বিশেষজ্ঞদেরও পুরোপুরি বিশ্বাস করা ঠিক নয়।
প্রথম অধ্যায়ের প্রশ্ন, স্কুলশিক্ষক ও সুমো কুস্তিগীরের মিল কোথায়? উত্তর হলো, দুই ক্ষেত্রেই লাভ বা ঝুঁকি বড় হলে কেউ কেউ প্রতারণার পথ নেয়। লেভিট শিকাগোর স্কুলে পরীক্ষার উত্তরপত্রের ধরন বিশ্লেষণ করে শিক্ষকদের উত্তর বদলানোর ইঙ্গিত খুঁজে পান। সুমো কুস্তিতে তাঁর বিশ্লেষণে ইঙ্গিত মেলে যে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের ফল সাজানো হয়েছে এবং পরে অন্য ম্যাচে তার প্রতিদান দেওয়া হয়েছে।
বইয়ের আরেকটি বড় ধারণা হলো তথ্যের অসমতা। যিনি বেশি জানেন, তিনি সেই জানাকে নিজের সুবিধায় কাজে লাগাতে পারেন। আবাসন এজেন্টদের উদাহরণ দেখানো হয়েছে। বইয়ের একটি সারসংক্ষেপ অনুযায়ী, এজেন্টরা নিজের বাড়ি বিক্রির সময় গড়ে প্রায় ১০ দিন বেশি অপেক্ষা করে ৩ শতাংশের বেশি দাম পেয়েছেন, অথচ গ্রাহকের বাড়ি তাড়াতাড়ি বিক্রি করতে চান।
প্রকাশের পর বইটি ৩৫টি ভাষায় অনূদিত হয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে ৪০ লাখের বেশি কপি বিক্রি হয়েছে। অর্থনীতির মতো বিষয়ের বইয়ের জন্য এটি বিরল সাফল্য।
বইটি অর্থনীতিকে দৈনন্দিন সিদ্ধান্তের সঙ্গে জুড়ে দেয়। এর ভাষা সহজ ও কথোপকথনের ঢঙে লেখা, ফলে জটিল ধারণাও সাধারণ পাঠকের কাছে সহজ হয়ে ওঠে। ব্যবসা, নীতি ও ক্রেতার আচরণ বুঝতে এর গল্প ও প্রশ্নগুলো সহায়ক। তবে মনে রাখা দরকার, বইয়ের কিছু উপসংহার নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে বিতর্ক আছে, তাই যেকোনো দাবি নিজে যাচাই করে নেওয়াই ভালো।
ফ্রিকোনমিক্স আমাদের শেখায়, চেনা বিষয়ও নতুন প্রশ্ন করে দেখলে অচেনা হয়ে ওঠে। এই কৌতূহলই অর্থনীতিকে বোঝার প্রথম ধাপ।