আপনি জানেন নিয়মিত ব্যায়াম শরীরের জন্য ভালো, অথচ কয়েক দিন ধরে ব্যায়াম করছেন না। তখন মনের ভেতর একটা অস্বস্তি তৈরি হয়। মনোবিজ্ঞানে এই অস্বস্তিকে বলা হয় জ্ঞানীয় অসংগতি, ইংরেজিতে কগনিটিভ ডিসোন্যান্স। এটি প্রায় সবার জীবনেই ঘটে।
যুক্তরাষ্ট্রের সমাজমনোবিজ্ঞানী লিওন ফেস্টিঙ্গার ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত ‘এ থিওরি অব কগনিটিভ ডিসোন্যান্স’ বইয়ে এই তত্ত্ব তুলে ধরেন। তাঁর মূল কথা, মানুষের মন নিজের বিশ্বাস, মূল্যবোধ ও আচরণের মধ্যে সামঞ্জস্য চায়। এগুলোর মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে মনে অস্বস্তি হয়, আর সেই অস্বস্তি কমাতে মানুষ কিছু একটা করতে চায়।
একজন মানুষ জানেন ধূমপান ক্ষতিকর, তবু তিনি ধূমপান করেন। এই দ্বন্দ্ব কমাতে তিনি তিনটি পথ নিতে পারেন: ধূমপান ছেড়ে দেওয়া, ভাবা যে ক্ষতি তেমন বড় নয়, অথবা নিজেকে বোঝানো যে চাপ কমাতে এটি দরকার। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মানুষ সবচেয়ে সহজ পথটিই বেছে নেয়, যা প্রায়ই নতুন তথ্য খোঁজা নয়। এ কারণেই অনেকে নতুন তথ্য পেলেও পুরোনো মত আঁকড়ে থাকেন।
১৯৫৯ সালে ফেস্টিঙ্গার ও জেমস কার্লস্মিথ স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি পরীক্ষা চালান। অংশগ্রহণকারীদের একটি একঘেয়ে কাজ করতে দিয়ে পরে বলা হয়, পরের অংশগ্রহণকারীকে জানাতে হবে কাজটি মজার ছিল। একদলকে এর জন্য ১ ডলার, অন্য দলকে ২০ ডলার দেওয়া হয়। পরে দেখা গেল, ১ ডলার পাওয়া দল কাজটিকে বেশি আনন্দদায়ক বলেছে। ব্যাখ্যা হলো, ২০ ডলার মিথ্যা বলার মতো যথেষ্ট কারণ জুগিয়েছিল, কিন্তু ১ ডলার তা পারেনি। তাই মন নিজেকে বুঝিয়েছে যে কাজটি আসলেই ভালো ছিল।
দামি কোনো জিনিস কিনে আমরা অনেক সময় বলি, ‘মান ভালো, তাই ঠিক ছিল।’ দুটি পছন্দের একটি বেছে নেওয়ার পর বেছে নেওয়াটির আকর্ষণ বেশি করে দেখাও একই প্রবণতা। এভাবে মন নিজের সিদ্ধান্তকে সঠিক প্রমাণ করতে চায়।
নিজের যুক্তিগুলো মাঝে মাঝে যাচাই করুন। ভুল হলে তা মেনে নিন এবং সিদ্ধান্তের আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন, আমি কি তথ্যের ভিত্তিতে ভাবছি, নাকি শুধু নিজেকে সান্ত্বনা দিচ্ছি।
জ্ঞানীয় অসংগতি দুর্বলতা নয়, মনের স্বাভাবিক প্রবণতা। এটি বুঝলে আমরা নিজের সিদ্ধান্ত ও আচরণ আরও স্পষ্টভাবে দেখতে পারি।