বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার, জ্বালানি আমদানি, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ব্যাংকিং খাতের সংস্কারে বিশ্বব্যাংকের কাছে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে অতিরিক্ত ৩.৭৭ বিলিয়ন ডলার সহায়তা চেয়েছে সরকার। এর মধ্যে ২.৭৭ বিলিয়ন ডলার বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য এবং ১ বিলিয়ন ডলার বাজেট সহায়তা হিসেবে চাওয়া হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত অর্থ দিয়ে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি, আর্থিক খাতের সংস্কার, খাদ্য নিরাপত্তা এবং বড় পরিবহন অবকাঠামো প্রকল্পে সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে, বিশ্বব্যাংকের নিয়মিত প্রকল্প সহায়তার বাইরে আগামী তিন বছরে অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ। ‘রেজিলিয়েন্স, রিফর্ম অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট পার্টনারশিপ’ (আরআরআইপি) কাঠামোর আওতায় এই অর্থায়নের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আগামী বছরের জুনের মধ্যে প্রস্তাবিত কাঠামো চূড়ান্ত করার লক্ষ্য রয়েছে।
চলতি অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত ২.৭৭ বিলিয়ন ডলারের প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে এলএনজি আমদানিতে ৩৫০ মিলিয়ন ডলারের গ্যারান্টি সহায়তা, ব্যাংকিং খাতের সংস্কারে ৪৫০ মিলিয়ন ডলার এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি সহায়তা হিসেবে ৩০০ মিলিয়লার ডলার।
এ ছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল করিডোর, ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে এবং ঢাকা ইনার সার্কুলার রিং রোড নির্মাণের মতো বড় অবকাঠামো প্রকল্পেও বিশ্বব্যাংকের সহায়তা চেয়েছে সরকার।
প্রস্তাবিত ১০ বিলিয়ন ডলারের দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার মধ্যে ৪ বিলিয়ন ডলার জ্বালানি তেল ও সারসহ জরুরি আমদানিতে, ১.৫ বিলিয়ন ডলার ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহায়তায়, ৩ বিলিয়ন ডলার ব্যাংকিং খাতের সংস্কারে এবং বাকি ১.৫ বিলিয়ন ডলার জরুরি সহায়তা ও যৌথ অর্থায়নে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে ঋণ সহায়তার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা চলছে। অর্থনীতিবিদেরা নতুন ঋণের অর্থ স্বচ্ছতা ও দক্ষতার সঙ্গে ব্যয় এবং জাতীয় ঋণের বোঝা নিয়ন্ত্রণে রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
অন্যদিকে, আইএমএফের সঙ্গে ৪.৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণ প্যাকেজ নিয়েও আলোচনা করেছে বাংলাদেশ। কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি এবং ব্যাংকিং খাতের মূলধন ঘাটতি দূর করতে কাঠামোগত সংস্কারের ওপর জোর দিয়েছে সংস্থাটি।