উন্নয়নশীল দেশে ইন্টারনেট সুবিধা বাড়াতে নতুন ডিজিটাল কৌশল বিশ্বব্যাংকের

উন্নয়নশীল দেশগুলোতে সাশ্রয়ী ইন্টারনেট সুবিধা সম্প্রসারণ, ডিজিটাল সেবা উন্নত করা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে নতুন ডিজিটাল কৌশল চালু করেছে বিশ্বব্যাংক গ্রুপ। ২০২৬ সালের ২০ অক্টোবর দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে ঘোষিত এই কৌশলে প্রযুক্তির সুবিধা আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের নতুন কৌশলের প্রধান লক্ষ্য চারটি। প্রথমত, বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সংযোগ সম্প্রসারণ করা।

দ্বিতীয়ত, সাধারণ মানুষের জন্য স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট ডেটার খরচ কমানোর উদ্যোগকে সহায়তা করা।
তৃতীয়ত, ডিজিটাল দক্ষতা বৃদ্ধি এবং অনলাইন পরিচয়, অর্থ লেনদেন ও সরকারি-বেসরকারি সেবা গ্রহণ সহজ করা।
চতুর্থত, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও দক্ষতা গড়ে তোলা।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে দুই শত কোটির বেশি মানুষ ইন্টারনেটের বাইরে ছিল। নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে মাত্র ২৩ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করত, যেখানে উচ্চ আয়ের দেশগুলোতে এই হার ছিল ৯৪ শতাংশ।
কর্মসংস্থানও এই উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ কারণ। আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ১২০ কোটি তরুণ কর্মক্ষম বয়সে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অথচ এসব দেশের অর্থনীতিতে প্রায় ৪২ কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
বিশ্বব্যাংক মনে করে, ডিজিটাল প্রযুক্তি কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, পর্যটন, জ্বালানি ও উৎপাদন খাতে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারে।

পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসা নতুন গ্রাহকের কাছে পৌঁছাতে এবং অনলাইনে অর্থায়নের সুযোগ পেতে পারে। তবে এই কৌশল ঘোষণার অর্থ এই নয় যে ইতিমধ্যে সব দেশে ইন্টারনেটের খরচ কমে গেছে বা নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। এর সুফল নির্ভর করবে বাস্তবায়ন, বিনিয়োগ ও মানুষের দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর।

ডিজিটাল সুবিধা কেবল ইন্টারনেট ব্যবহারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি শিক্ষা, ব্যবসা ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরির মাধ্যম। বিশ্বব্যাংকের এই উদ্যোগ সফল হলে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বিস্তৃত হতে পারে।