একটি পণ্যের প্রচারণা থেকে কীভাবে বড় সংকট তৈরি হতে পারে, তার আলোচিত উদাহরণ Starbucks Korea-এর ‘Tank Day’ বিতর্ক। ২০২৬ সালের ১৮ মে প্রতিষ্ঠানটি তাদের ‘Tank’ সিরিজের পানির পাত্রে ছাড় দিতে একটি অনলাইন প্রচারণা চালু করে। কিন্তু প্রচারণার নাম ও স্লোগান ঘিরে দক্ষিণ কোরিয়ায় তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রচারণাটি বন্ধ করে ক্ষমা চায় প্রতিষ্ঠানটি।
১৮ মে দক্ষিণ কোরিয়ার ১৯৮০ সালের গোয়াংজু গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনের স্মরণে গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। ওই আন্দোলনে সামরিক বাহিনীর দমন-পীড়নে বহু মানুষ নিহত ও আহত হন।
প্রচারণায় ‘Tank Day’ নাম এবং ‘টাক’ শব্দযুক্ত একটি স্লোগান ব্যবহার করা হয়েছিল। সমালোচকদের কাছে ‘Tank’ শব্দটি আন্দোলন দমনে ব্যবহৃত সামরিক ট্যাংকের স্মৃতি ফিরিয়ে আনে। অন্যদিকে, ‘টাক’ শব্দটি ১৯৮৭ সালে পুলিশি নির্যাতনে নিহত শিক্ষার্থী পার্ক জং-চোলের ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি ঐতিহাসিক বক্তব্যের কথা মনে করিয়ে দেয়।
ফলে প্রচারণাটিকে অনেকেই দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাস ও মানুষের সংবেদনশীল স্মৃতির প্রতি অসচেতন সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখেন। তবে ইচ্ছাকৃতভাবে ইতিহাসকে উপহাস করার উদ্দেশ্যে প্রচারণাটি তৈরি করা হয়েছিল—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো প্রমাণ প্রকাশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
বিতর্কের পর Starbucks Korea প্রচারণাটি প্রত্যাহার করে ক্ষমা চায়। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান সন জং-হিউনকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। শিনসেগে গোষ্ঠীর চেয়ারম্যানও প্রকাশ্যে ক্ষমা চান।
এই ঘটনা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য তিনটি শিক্ষা দেয়:
• প্রেক্ষাপট যাচাই: প্রচারণার নাম, তারিখ ও স্লোগান স্থানীয় ইতিহাস ও সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা যাচাই করা জরুরি।
• যথাযথ পর্যালোচনা: প্রকাশের আগে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে প্রচারণার সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া বিবেচনা করতে হবে।
• দায়িত্বশীল যোগাযোগ: সংকট তৈরি হলে দ্রুত পদক্ষেপ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি গুরুত্বপূর্ণ।
Starbucks Korea-এর ‘Tank Day’ বিতর্ক দেখিয়েছে, সৃজনশীল প্রচারণার পাশাপাশি ইতিহাস ও সামাজিক সংবেদনশীলতা বোঝাও জরুরি। মানুষের আস্থা ধরে রাখতে প্রচারণার প্রতিটি সিদ্ধান্ত হতে হবে দায়িত্বশীল ও যথাযথভাবে যাচাই করা।