বাংলাদেশে একসময় পরিচিত আকাশচারী পাখি শকুন এখন অস্তিত্বের সংকটে। বিশেষ করে হবিগঞ্জে শকুনের সংখ্যা গত পাঁচ বছরে প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। সরকারি হিসাবে বর্তমানে মাত্র ৬০টি শকুন নথিভুক্ত থাকলেও সংরক্ষণসংশ্লিষ্টদের ধারণা, বাস্তবে টিকে আছে ৪০টিরও কম।
শকুনের এই দ্রুত পতনের পেছনে অন্যতম বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে পশুচিকিৎসায় ব্যবহৃত কিছু বিষাক্ত ওষুধ। এসব ওষুধে চিকিৎসা করা মৃত গবাদিপশুর মাংস খাওয়ার পর শকুন বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যেতে পারে। ফলে নিরাপদ খাদ্যের সংকটের পাশাপাশি বিষক্রিয়াও প্রজাতিটির জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শকুনের প্রজনন আচরণ। শকুন সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি জোড়াবদ্ধ সম্পর্কে থাকে। কোনো একটি পাখির সঙ্গী মারা গেলে অনেক ক্ষেত্রে জীবিত পাখিটি নতুন সঙ্গী গ্রহণ না করায় তার প্রজননও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে একটি শকুনের মৃত্যু শুধু একটি প্রাণীর সংখ্যা কমায় না, ভবিষ্যৎ প্রজননও ব্যাহত করতে পারে।
প্রকৃতিতে মৃত প্রাণীর দেহ দ্রুত পরিষ্কার করে রোগজীবাণু ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমাতে শকুন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই হবিগঞ্জে শকুনের সংখ্যা কমে যাওয়া শুধু একটি পাখির অস্তিত্বের সংকট নয়; এটি স্থানীয় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্যও উদ্বেগের বিষয়।